লালমনিরহাট জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতি, পাঁচটি উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাট জেলায় টানা বৃষ্টি পাহাড়ি ঢলে তিস্তা,ধরলা,সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।জেলার পাঁচটি উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।পানি বন্দি মানুষ শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি,গোখাদ্য সংকটে পড়েছে।জরুরী ভিত্তিতে ত্রান সামগ্রী পৌঁছানোর আহবান।

রবিবার (১২জুলাই) জেলার ছোট বড় সকল নদ নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে।তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম,হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারি, সিংঙিমারি, দোয়ানী, সিন্ধূর্না,কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনা, ভোটমারি, পারুলিয়া,আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর,বড়বাড়ি, খুনিয়াগাছ,গোকুন্ডা,মোগলহাট,কুলাঘাট, ইউনিয়ন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

তিস্তা নদীর পানি গতকাল রাতে হাতিবান্ধা ব্যারেজ পয়েন্টে ৫২দশমিক ৯৮পয়েন্ট রেকর্ড করা হয় যা বিপদ সীমার ৩৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।আজ রবিবার তিস্তার পানি কিছুটা কমে আসে, সকালে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় বিপদ সীমার ১৫সেন্টিমিটার উপর দিয়ে তিস্তা নদীর প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও জেলার অপর বৃহত নদী ধরলার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।রবিবার সকালে ধরলা নদীর পানি ফুলবাড়ি পয়েন্টে মাপা হয়,বিপদ সীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারি, খারুয়া, বোয়ালমারি, কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট,চর খাটামারি,শিবেরকুঠি,বড়বাড়ি ইউনিয়নের চর বাসুরিয়া,চর কলাখাওয়া এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে আজ।এসব এলাকার বসত বাড়ি,ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে,ফলে বিশুদ্ধ পানি শুকনো খাবার গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

টানা বৃষ্টি উজানের পাহাড়ি ঢলে সপ্তাহের শুরুতেই চতুর্থ দফায় তিস্তা ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট জেলায় পূনরায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।বন্যার পানিতে পাঁচটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হবার পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।একদিকে করোনা কালীন দূর্যোগে জেলার নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সংকটে রয়েছে,তার উপর এই বন্যা পরিস্থিতি গোঁদের উপর বিশফোঁড়ার মত।

তাই জরুরী ভিত্তিতে পানি বন্দি মানুষর জন্য শুকনো খাবার,পানি বিশুদ্ধ করেন ট্যাবলেট,গো খাদ্য সরবরাহ করার আহ্বান জানিয়েছে পানি বন্দি মানুষ।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর আহমেদ জানিয়েছেন তিস্তা ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।পানি বন্দি এসব মানুষের তালিকা তৈরী করে দ্রুত ত্রান সহায়তা পৌছায় ব্যাবস্থা করছি আমরা