ইরানি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে শত্রু জঙ্গিবিমানের বিপজ্জনক মহড়া, জাতিসংঘে অভিযোগ

শেখ আল মাসুদ,ইরান।।

সিরিয়ার আকাশে ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে বিপজ্জনক মহড়া চালিয়েছে দু’টি শত্রু জঙ্গিবিমান। কোনো কোনো সূত্র যুদ্ধবিমান দু’টিকে আমেরিকার বলে উল্লেখ করলেও অন্য সূত্র বলেছে, জঙ্গিবিমানগুলো ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইলের।

সংবাদ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ‘মাহান এয়ার’র একটি যাত্রীবাহী বিমান গতকাল বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) দুপুরের পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতের উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগ করে। সন্ধ্যার দিকে বিমানটি সিরিয়ার অত্যন্ত কৌশলগত এলাকা ‘তাল আন্‌ফ’র আকাশে পৌঁছালে দু’টি শত্রু যুদ্ধবিমান ইরানি যাত্রীবাহী বিমানটির চারপাশে বিপজ্জনক মহড়া চালায়।এ অবস্থায় জঙ্গিবিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে ইরানি পাইলট হঠাৎ করে যাত্রীবাহী বিমানের উচ্চতা কমিয়ে এটিকে নীচে নামিয়ে আনেন।

এ সময় সিট বেল্ট বাধা না থাকা অপ্রস্তুত কয়েকজন যাত্রী আহত হন। বিমানটিতে থাকা আইআরআইবি’র একজন সংবাদদাতার পাঠানো ভিডিও ক্লিপে একজন বয়স্ক যাত্রীকে বিমানের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিমানে থাকা যাত্রীরা জানিয়েছেন, জঙ্গিবিমানগুলো এক পর্যায়ে তাদের বিমানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি আজ (শুক্রবার) ভোররাতে বলেছেন, এই ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার পুরো চিত্র হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি এ বিষয়ে এরইমধ্যে মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন।

রাভানচি জাতিসংঘ মহাসচিবকে বলেছেন, ইরানের যাত্রীবাহী বিমানটি তেহরানে ফিরে আসার পর যদি কোনোরকম সমস্যার মুখে পড়ে তাহলে তার দায় আমেরিকাকে নিতে হবে।