কোলোরেক্টাল বা কোলন ক্যান্সার (Colorectal/Colon cancer)

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা ।।
কোলন হচ্ছে অন্ত্র, আমাদের খাদ্য পরিপাক এর নিচের    অংশকেই বলা হয় কোলন বা বৃহদন্ত্র। আর তার নিচেই থাকে রেক্টাম (Rectum) যেখানে মল জমা হয় আর এই অংশের ক্যান্সার-কে বলা হয় কোলোরেক্টাল ক্যান্সার। বংশে কারও কোলোরেক্টাল ক্যান্সার থাকলে বাকি সদস্যদেরও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া যদি কারও কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এর খুব বেশি সমস্যা থাকে তাহলেও এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোলন ক্যান্সার হওয়ার কারন ::
১. যে কোন বয়সেই এই ক্যান্সার হতে পারে। তবে সাধারণত ৫০ বা তাঁর বেশি বয়সের মানুষদেরই বেশি হয়ে থাকে।
২. ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবনকারীদের এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের থেকে বেশি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
৩.অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ যেমন ইনফেকশন, আলসার, অন্ত্রের প্রদাহ ইত্যাদি ঠিকমত চিকিৎসা না হলে কোলন ক্যান্সার-হতে পারে।
৪.অতিরিক্ত ওজন যাদের তাঁদের কোলন ক্যান্সার-এ আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার বেশি।
৫. খাদ্যতালিকায় আমিষ যেমন: গরুর মাংস, ফাস্টফুড, বার্গার এসব বেশি খেলে বা শাক সবজি তুলনামুলক ভাবে কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আর কোষ্ঠকাঠিন্য কোলন ক্যান্সার-হওয়ার অন্যতম কারন।
৬. ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের ইনসুলিন রেজিস্টেন্স আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
কোলন ক্যান্সার হওয়ার লক্ষণসমূহ –
১. মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন।
২. রক্তশূন্যতা
৩. পায়ুপথে বা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
৪.অনেক বেশি সময় ধরে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা।
৫. ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া।
৬. পেটে গ্যাস, পেট ফুলে থাকা, পেট মোচড়ানো, পেট ফাঁপা ভাব ইত্যাদি থাকা।
৭. মলত্যাগের পরেও পেট পুরোপুরি খালি হয় নি এমন মনে হওয়া।
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তন করা জরুরী। খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও সবজি বেশি পরিমাণে রাখুন। কারন এইসব খাবারে ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিমাণে বেশি থাকে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
নেশাদ্রব্য থেকে বিরত থাকুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সঠিক ওজন বজায় রাখুন। নিজের ও পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্যের জন্য  এ রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।