লক্ষ্মীপুরে এক রিক্সার ড্রাইভারকে তিন লক্ষ টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি

মুজাহিদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর ।।
লক্ষীপুর জেলার সদর উপজেলার ৪ নং চর চররুহিতা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এর (ছিদ্দিক ভূইয়া) বাড়ির মোঃ মনির হোসেন নামের এক রিক্সার ড্রাইভারকে মোঃ নিজাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি তিন লক্ষ টাকা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, মোঃ মনির হোসেন দীর্ঘদিন যাবত রিকশা চালিয়ে আসছেন, দিন আনে দিন খায় এমন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মোহাম্মদ মিজান হোসেন পিতা আব্দুল মতিন এর উপর এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অত্র ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, মোঃ মনির হোসেন একজন সাধারন রিক্সার ড্রাইভার। সে কোনরকম রিকশা চালিয়ে জীবন-যাপন করে। আমরা কখনও তাকে দেখিনি সে কোন ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা গরুর ব্যবসা করতে, ইদানিং শোনা যাচ্ছে মোহাম্মদ মিজান হোসেন নামের এক ব্যক্তি তার নামে মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনেছে। আমি বিষয়টি শুনে হতাশ হলাম, এজাহারে নাকি বলা আছে সে গরুর ব্যবসা করার জন্য টাকাটা নিয়েছে। আমার জানামতে সে কিংবা তার পুরো বংশের মধ্যে কেউ গরুর ব্যবসা করে নাই।
ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন আরো বলেন, সে তার নিজ নাম লিখতে হিমশিম খায় আবার নাকি সেখানে স্ট্যাম্পে স্বহস্তে সাক্ষ্য দিয়েছে, বিষয়টি আমার কাছে মিথ্যে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে এলাকাবাসী গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে মোঃ মিজানের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। নিজাম হোসেনকে তার গ্রামে সুদি মিজান নামেও সকলে চেনেন। সে ২০০৫ সাল থেকে সুদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
এলাকাবাসী বলেন, কোন ব্যক্তি (১০,০০০)টাকা থেকে (২০,০০০) হাজার টাকা পর্যন্ত নিলে স্টাম্প কিংবা ব্ল্যাংক চেকের বিনিময় সে সুদের টাকা দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই টাকা ফেরত না দিলে সেই স্ট্যাম্প কিনবা ব্ল্যাংকের চেক এর মধ্যে লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে।
সাধারন মানুষদের মধ্যে সকিনা, মনোয়ারা, ফাতেমা, জুলফিকার, রাবেয়া, সুলতানা, আমেনা ও সুমিসহ অর্ধশত লোক অভিযোগ তুলেছ সুদি নিজাম হোসেনের বিরুদ্ধে।
এখানেই নিজামের শেষ নয়, চররুহিতা কাঞ্চনী বাজার থেকে ইটেরপুল, বকুলতলা ব্রিকফিল্ড পর্যন্ত দুই পাশের বেড়ী বাদ তার দখলে। আশেপাশে গরীব পরিবার ঘর তুলতে গেলে তাকে দিতে হয় ৫০ থেকে ১ লক্ষ টাকা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ তোলেন, বেড়ী বাদের দুই পাশের গাছ কেটে সুপারি গাছ লাগিয়ে দুই পাশের বেড়ী বাধ দখল করে আছে সুদি নিজাম হোসেন।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। এবং মোঃ মনির হোসেন এর বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেন।
