বুড়িমারিতে কোরান অবমাননায় একজন কে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে বিক্ষুদ্ধ জনগন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারিতে কোরান অবমাননার দ্বায়ে বিক্ষুদ্ধ জনগন একজন কে পিটিয়ে মেরেছে, পরে ঐ লাশটি বিক্ষুদ্ধ জনগন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
বৃহস্পতিবার ২৯অক্টোবর সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পূর্বে বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।এই ঘটনাটি কে কেন্দ্র করে বুড়িমারি বাজার এলাকায় হাজার হাজার বিক্ষুদ্ধ মানুষ সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেছে,পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছে।ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা এতে বাঁধা দেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি বাজার এলাকার জামে মসজিদে অপরিচিত দুই ব্যাক্তি আসর নামাজ পড়তে ঢুকে, নামাজ শেষে তারা মসজিদে অস্ত্র আছে বলে দাবী করে,এ সময় মসজিদের তাকে কোরান শরীফে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা আছে বলে তা খুলে দেখে এবং কোরান শরীফ ছুড়ে ফেলে দেয়,এ সময় মসজিদে থাকা চার পাঁচজন মুসল্লি বাঁধা দিলে, ঐ দুই ব্যাক্তি মুসল্লিদের মারধর করে।এমন খবর পেয়ে একজন ইউপি সদস্য ঐ দুই ব্যাক্তি কে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখেন।এই খবর পেয়ে মুহুর্তের মধ্যে শত শত মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে জমায়েত হয়,তারা কোরান শরীফ অবমাননা কারীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে।
উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন কুমার মহন্ত,পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ নিশাত কে খবর দেওয়া হয়,তারা ঘটনাস্থলে পৌছার আগে উত্তেজিত জনতা ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙে ঐ দুই ব্যাক্তি কে বের করে এনে একজন কে পিটিয়ে মেরে ফেলে,অন্যজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।পরে লাশটি নিয়ে উত্তেজিত জনতা বুড়িমারি লালমনিরহাট মহাসড়কের বাঁশকল এলাকায় নিয়ে রাস্তায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।
মসজিদের খাদেম জুবেদ আলী ঘটনার বিবরণে জানান,আমাকে র্র্যাব ও আর্মির পরিচয় দিয়ে দুই ব্যাক্তি মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে,তারা জানান মসজিদে অস্ত্র লুকানো রয়েছে,এই কথা বলে তারা অস্ত্র খুঁজতে মসজিদের তাকে রক্ষিত কোরান শরীফ তছনছ করেন।এ সময় পাঁচ ছয়জন মুসল্লি ঐ দুই ব্যাক্তি কে বাঁধা দিলে তারা মুসল্লিদের মারধর করেন,এ সময় হাফিজ উদ্দিন নামক ইউপি সদস্য ঐ দুই ব্যাক্তি কে ইউনিয়ন পরিষদের দিকে নিয়ে যান,তারপর কি ঘটনা ঘটেছে তা আমি বলতে পারি না।
ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন কে ঐ দুই ব্যাক্তির পরিচয় সম্পর্ক্যে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় আটক ব্যক্তিদের পরিচয় জানার আগেই উত্তেজিত জনতা তালা ভেঙে বের করে নিয়ে যায়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মহন্ত ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, আমরা পৌছার পূর্বে উত্তেজিত জনতা একজনকে পিটিয়ে মেরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে,অপর জন পালিয়ে যাওয়ায় পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ র্র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা,জেলা প্রশাসক আবু জাফর আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌছতে রওয়ানা হয়েছেন।ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি বুঝে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে বলে জানান।এদিকে ঘটনাস্থলে পাঁচ ছয় হাজার উত্তেজিত মানুষ এখনো অবস্থান করছে বলে জানা যায়।
