আমন চালের সরকারি মূল্য নিয়ে চালকল মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ, চুক্তি করতে অনিহা

হাবিব শিমুল,আদমদীঘি(বগুড়া) প্রতিনিধি ।।

আসন্ন আমন ধান-চাল সংগ্রহ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত চালের মূল্য নিয়ে লাইসেন্সধারী চালকল মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ চালকল মালিক সরকারের সাথে চুক্তি করতে অনিহা প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, গত বোরো মৌসুমের মত আমন মৌসুমেও ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা। তবে সিদ্ধ ও আতব চাল আগের চেয়ে এক টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা এবং ৩৬ টাকা। গত বোরো মৌসুমে এবং বর্তমানে সিদ্ধ চালের যে উৎপাদন মূল্য পড়ছে তা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫/৭ টাকা বেশি। এ কারনে চালকল মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উৎপাদন মূল্য থেকে সরকারি মূল্যে বড় ফারাক থাকার কারনে গত বোরো মৌসুমে সরকার লক্ষমাত্রা পূরণ করতে পারে নি। একই কারনে আসন্ন আমন ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষমাত্রা বোরোর চেয়ে অনেক কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে হাট-বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় একদিকে কৃষক সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রিতে তেমন একটা আগ্রহী ছিলেন না। অন্য দিকে চালকল মালিকরা বাজার মূল্যে ধান কিনে, চাল উৎপাদন করে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতি কেজিতে ৫/৭ টাকা লোকসান দিয়েছেন। ফলে এবার তারা সরকারের সাথে চুক্তি করতে অনিহা প্রকাশ করছেন।

সান্তাহার চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আহমেদ আলী স্বপন বলেন, শুধু আমি কেন লাইসেন্সধারী সব চালকল মালিকই আমন মৌসুমে সরকারের সাথে চুক্তি করতে আগ্রহী হবেন না। তিনি বলেন গত বোরো মৌসুমে আমার মিলের অনুকূলে বরাদ্দ করা চাল সরকারি গুদামে দিয়ে লোকসান হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ টাকা। এভাবে প্রতিটি অটোমেটিক, সেমি অটোমেটিক এবং হাস্কিং মালিক যারা চুক্তি করেছিল প্রত্যেকের এমন ভাবে লোকসান হয়েছে। প্রতিবার এতো বড় লোকসান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি প্রশ্নের সুরে বলেন, ইতি মধ্যে হাট-বাজারে আগাম জাতের আমন ধান কিনে উৎপাদন করা চালের প্রতি কেজি পরতা পড়ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা। তাহলে সরকারি গুদামে ৩৭ টাকা কেজি চাল কে দেবে।

সান্তাহারসহ আদমদীঘি উপজেলা, পাশের দুপচাচিয়া, কাহালু এবং নওগাঁর বন্ধ থাকা প্রায় কয়েক শত হাস্কিং, সেমি অটোমেটিক এবং অটোমেটিক চালকলের বরাদ্দ কিনে সেসব মালিকদের পক্ষে চাল সরবরাহ করে আসা ব্যবসায়ী (নিজের একটি ও ভাড়া করা তিনটি) চালকল মালিক মতিউর রহমান স্বপন, মমতিয়াজুর রহমানসহ বেশ কিছু ব্যবসায়ীও বলেছেন একই কথা।

একই কথা বলেছেন আদমদীঘি ও দুপচাচিয়া উপজেলার চালকল মালিকগণ। তারা আরো বলেন, সরকার ৩৭ টাকা কেজি মূল্য দিলেও খাদ্য বিভাগের নানা ঘাটে ‘উপরি’ দিতে দিতে প্রতি কেজিতে খরচ হয়ে যাবে কমপক্ষে আরো ২ টাকা। আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ধান এবং ১৫ নভেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়ে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।