কমলনগরে মেঘনার কবলে কাঁদছে মানুষ

শাকিল মাহমুদ,কমলনগর(লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ।।
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী সারা বছর ধরে অব্যাহতভাবে ভেঙেই চলেছে। বছরের সব মৌসুমেই ভাঙে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা।
এবারের বর্ষা মৌসুমে ভাঙন পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ জনপদ।
গত একমাসে ভাঙনে কমলনগরের লুধূয়া বাজারের আশে পাশে কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।হুমকির মুখে রয়েছে বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।
বসত বাড়ি হারিয়েছে অন্তত শতাধিক পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে রামগতি-কমলনগরের মানুষ অন্য কোনো উন্নয়ন নয়; কেবলই ভাঙন প্রতিরোধে নদী তীর রক্ষা বাঁধ চায়।
মেঘনা উপকূল ঘুরে সরজমিনে দেখা যায়, রামগতি ও কমলনগরে বেড়িবাঁধ না থাকায় অরক্ষিত। বর্ষা এলেই এখানে আতঙ্ক বেড়ে যায়। এখন বর্ষা গেলেও আতঙ্ক কাটে না। সারা বছরের ভাঙনে এখানকার মানুষ দিশেহারা।
নদী ভাঙনের শিকার মানুষগুলো দুঃখ কষ্টের শেষ নেই। তারা সব হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অনেকই রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের দু’পাশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ছেলে-মেয়েদের পড়া লেখা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা থেকে রামগতি পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধের মধ্যে প্রায় ৩২ কিলোমিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় অব্যাহত ভাঙনের মুখে রয়েছে কমলনগর উপজেলা চর কালকিনি, সাহেবেরহাট, চর ফলকন, চর লরেন্স ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।
ভাঙনের মুখে থাকা বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জোয়ার এলেই পানি উঠে বাজার ডুবে যায়, এমন অবস্তায় ব্যবসা বানিজ্য,বাড়ি থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ভাঙন না ঠেকানো না গেলে তাদের পথে বসতে হবে।
নদীর আসে পাশের বাসিন্দারা বলেন, ভাঙন এতোই বেশি ঘর-বাড়ি সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে ভাঙতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রামগতি ও কমলনগর উপজেলা বিলীন হয়ে যাবে।
রামগতি কমলনগর উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের একটাই দাবি, অন্য কোনো উন্নয়ন নয় ভিটে মাটি রক্ষার্থে ড্রেজিং করে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ চায়। এসব কাজ সেনাবাহিনীকে দিয়ে কাজ সম্পূর্ন করার দাবি কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষের।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এক কর্মকর্তা বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
