ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে

অনলাইন ডেস্ক ।।

করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ হলেও বিশেষ ছাড়ের কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে। তবে ছাড় শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বাড়তে পারে। এজন্য বিশেষ সুবিধা শেষে ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে।

দেশের অর্থনীতির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।  প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে সেপ্টেম্বর ভিত্তিক তথ্যের আলোকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা, ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা ও কার্যকারিতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সময় লাগতে পারে। এরকম অবস্থায় প্রণোদনা প্যাকেজগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনার আওতায় বড় শিল্প, এসএমই ও কৃষি খাতে বিতরণ করা ঋণের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে তদারকি থাকতে হবে। কেননা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিসহায়তা, কম খরচের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের কারণে বাজারে প্রচুর তারল্য এসেছে। এ অবস্থা মধ্যমেয়াদি মূল্যস্ম্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।

করোনাভাইরাসের ক্ষতি পোষাতে সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ভর্তুকি সুদে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণ বিতরণ করে ৯ শতাংশ সুদ পাবে ব্যাংক। নির্ধারিত মেয়াদে যার একটি অংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। বাকি অংশ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। এসব প্যাকেজের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতে প্রণোদনার আওতায় বিতরণ করা হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে সাড়ে ৪ শতাংশ হারে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। সিএমএসএমই খাতের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সরকার ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। কৃষি খাতের জন্য নির্ধারিত ৮ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। অবশ্য প্রণোদনার বাইরে এখন খুব একটা ঋণ চাহিদা না থাকায় সামগ্রিকভাবে ঋণ প্রবৃদ্ধি সেভাবে বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে সুদহার কমছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে গত অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অর্থনীতির গতিও কমেছে। ক্ষতি পোষাতে এসব দেশ সাধ্যমতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। আর বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত রয়েছে ১০ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ছাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় যা কম। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সরকারের কর সংস্কার নীতির যথাযথ প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপির অনুপাত অনেক দেশের তুলনায় কম থাকায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ বা বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।-সমকাল