লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসায় গাফিলতির কারনে মৃত্যুশয্যায় এক প্রশূতি।অনিয়মের প্রতিবাদে আজ বিভিন্ন সংগঠনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার ২০ মার্চ সকাল ১১টায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের সম্মুখে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এক মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানব বন্ধনে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম,সেচ্ছাচারিতা,দূর্নিতীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন গত ১৩ই মার্চ সদর উপজেলার দুড়াকুঠি গ্রামের গোলাম রব্বানির স্ত্রী রহিমা বেগম(২৮) নামের এক প্রসূতি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন,হাসপাতাল কতৃপক্ষ ঐ প্রসূতির জন্য এক ব্যাগ বি+ রক্ত আনতে বলেন।সেচ্ছা সেবী সংগঠনের সোহান সাকলায়িন প্রসূতি রোগীকে এক ব্যাগ বি+রক্ত তার শরীর থেকে দেন।হাসপাতাল কতৃপক্ষ ক্রস ম্যাচিং করে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় না করে ঐ রক্ত প্রসূতিকে পুশ করেন, এতে ঐ প্রসূতির অবস্থা আশংকা জনক হলে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।প্রকৃত পক্ষে ঐ রোগীর রক্তের গ্রুপ A+ বর্তমানে ঐ প্রসূতি রংপুর মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।প্রসূতির স্বামী গোলাম রব্বানি বলেন আমাদের হাসপাতাল কতৃপক্ষ বি+রক্তের কথা বলেছেন আমরা সেটাই যোগার করেছি,তারা যদি রক্ত দেবার সময় রোগীর সাথে ক্রস ম্যাচিং করতো তবে আমার স্ত্রীকে আজকে এই অবস্থায় পড়তে হতো না।এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারনে ঘটেছে।এই ঘটনায় হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান জাহিদ ও মোজাফ্ফর এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সংযোগ পাওয়া যায়নি।
জেলা সেচ্ছা সেবকলীগ নেতা বেলাল হোসেন শিপলু বলেন,জেলা সদরের একমাত্র হাসপাতাল এটি, এখানে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের স্বর্গ রাজ্যে পরিনিত হয়েছে, নিয়মিত ডাক্তার থাকে না, নার্সদের কাছে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যায়না।হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিভিন্ন ক্লিনিক ব্যাবসার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে, আমরা এর পরিত্রাণ চাই।
পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম পাপ্পু বক্তৃতায় বলেন, লালমনিরহাট জেলা শহড়ের একমাত্র হাসপাতালটিতে নূন্যতম সেবার মান নেই,একটু গভীর ইনজুরি কোন রোগী আসলে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজে,ডাক্তাররা নিয়মিত রোগী দেখেন না,এক দুদিন সপ্তাহে তাদের দেখা পাওয়া গেলেও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভীড়ে রোগীদের সাথে কথা বলার সুযোগ থাকে না ডাক্তারদের।ইতিপূর্বে হাসপাতাল এর ষ্টোর কিপার ঔষধ চুরির সাথে যুক্ত থাকার কথা আমরা সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি।এমন নানা অনিয়মে ভরপুর লালমনিরহাটের সদর হাসপাতাল।অবিলম্বে এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাবার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।
