পবিত্র কোরআনের ২৬টি আয়াত নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ, বাদীর জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক ।।

ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের সুনির্দিষ্ট ২৬টি আয়াত ‘সন্ত্রাসবাদের প্রমোট’ করছে এমন অভিযোগ তুলে আদালতে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।শুধু তাই নয়, এরকম একটি ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ পিটিশন দাখিল করার জন্য আবেদনকারীকে ৫০,০০০ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

সোমবার ( ১২ এপ্রিল) বিচারপতি রোহিনটন নারিমানের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই রিট পিটিশনকে ‘পুরোপুরি অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করে রিটটি খারিজ করে দেন। এই অর্থ জরিমানা লিগ্যাল এইড সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে দিতে বলা হয়েছে।

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনের সুনির্দিষ্ট ২৬টি আয়াত ‘সন্ত্রাসবাদের প্রমোট’ করছে এমন অভিযোগ তুলে আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশ শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের সাবেক প্রধান ওয়াসিম রিজভী।সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের একজন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দেশের শিয়া মুসলিম সমাজের একজন প্রভাবশালী নেতা।গত ডিসেম্বরে তিনি কোরানের বিশেষ কয়েকটি আয়াত অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এই আয়াতগুলো মূল কোরানের অংশ নয় বলেও পিটিশনে দাবি করা হয়েছিল।তার যুক্তি ছিল, এই আয়াতগুলি মুসলিমদের তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়ে বিধর্মীদের, বিশেষত মূর্তিপূজায় বিশ্বাসীদের হত্যা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বিধর্মীদের ওপর হামলা চালানোর ‘সাফাই’ হিসেবে এই আয়াতগুলো কাজে লাগাচ্ছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে সোমবার প্রথম দিনের শুনানিতেই তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনটিকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।

বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন জাস্টিস রোহিংটন নরিম্যান, তিনি এমনও প্রশ্ন তোলেন, “আবেদনকারী কি এই পিটিশন নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস? আমরা তো বিশ্বাসই করতে পারছি না!”

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মাহমুদ দরিয়াবাদী বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, “পবিত্র কোরানের কোনও আয়াত মানুষকে সহিংসতায় প্ররোচিত করে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।

দক্ষিণ ভারতের আর্কটের নবাব মহম্মদ আবদুল আলিও বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যদি এই আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাহলে সেটা হবে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।

বিচারপতি নারিমান আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি সত্যিই এই পিটিশন নিয়ে তর্ক করতে চান? ওই আইনজীবী দুই মিনিট সময় চান। তিনি আদালতকে বলেন, মাদরাসায় আটকে রেখে শিশুদের মধ্যে ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদের উন্মেষ’ ঘটাতে এসব আয়াত ব্যবহার করা হচ্ছে।

পরে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে বিচারপতি নারিমান বলেন, আমরা আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনেছি। এবং এটা পুরোপুরি অর্থহীন তাই আমরা এই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছি। রিজভী তার পিটিশনে বলেছিলেন যে, অবিশ্বাসী এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৈধতা দিতে এসব আয়াত কুরআনে ঢুকানো হয়েছে।