ঢিলেঢালা ভাবে চলছে কুবির অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

আবু সাঈদ, কুবি প্রতিনিধি :
দেশে বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে  অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তা চলছে ঢিলেঢালা ভাবে। 
আর এজন্য অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি,  সে কারণে শিক্ষকদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, পাশাপাশি কোর্স শেষ করলেও পরীক্ষা না নিতে পারায় পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতির মুখে পড়বে এমন আশংকাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে পরবর্তী সময়ে ভয়াবহ সেশনজটের আশংকাও করছেন তারা।
অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে ১৪তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের এই দেড় বছরে মাত্র একটা সেমিস্টারের কোর্স শেষ হয়েছে।  দ্বিতীয় সেমিস্টারের  ৪টা কোর্সের দুইটার ৩০% শেষ করে আর বাকি দুই কোর্সের দুইটা করে ক্লাস নেবার পর আর কোন ক্লাস হচ্ছে না।
একই অভিযোগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মেসী ডিপার্টমেন্টের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম দিকে অনলাইনে  যখন ক্লাস হতো তখন ভালোই  চলছিল সব। আমাদের একটা সেমিস্টারও শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরের সেমিস্টারে ক্লাস খুব কম হয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে আমাদেরকে সেশন জটে পড়তে হবে৷
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা যে ক্লাসে অনাগ্রহী বিষটা তেমন না। যে পরীক্ষা ৬ মাস বা ১ বছর পরে হবে সে কোর্সটা যদি আমরা এখন শেষ করে ফেলি তার ফল ভালো কিছু হবে না। আর মাঝে মাঝে শিক্ষকেরা আমাকে রিপোর্ট করছে ক্লাসে স্টুডেন্টদের উপস্থিতি খুব সামান্য।  এতে করে ক্লাসের বাইরে যারা থেকে যাচ্ছে পরীক্ষার সময় তারা ক্রাইসিসের মধ্যে পরবে।
এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে বলতে গেলে  এই সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামুখী করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এতে করে ছাত্ররাও আগ্রহ করে ক্লাস করবে আর শিক্ষকরাও তাদের দ্বায়িত্ববোধ থেকে ক্লাস নিবে। আর বর্তমানে করোনা মহামারি আরো খারাপ দিকে যাচ্ছে আর এটা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তাও বলা যাচ্ছে না। আর এই পরিস্থিতি মোকাবেলায়  কর্তৃপক্ষ যদি বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়  যেভাবে অনলাই এক্সাম পলিসির দিকে যাচ্ছে সেই ভাবে আমাদেরও যদি অনলাইন পরীক্ষা দেবার সুযোগ থাকতো তাহলে  অন্তত এই সমস্যা সমাধান করা যেত।
একই বিষয়ে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন শরীফুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিজে শিক্ষক হিসেবে বলছি, ক্লাসে তেমন উপস্থিতি পাওয়া যায় না, উপস্তিতি না থাকার পেছনে কারন গুলো হল নেটওয়ার্ক সমস্যা আবার অনেকের স্মার্ট ফোন নেই। এতে করে ক্লাসের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সেমিস্টার সিস্টেমে ক্লাস করার ক্ষেত্রে স্টুডেন্টদের যেটা হয় যদি ঠিকভাবে মিডটার্ম গুলা তারা দিতে পারতো তারপর পরীক্ষা হত এসাইনমেন্ট গুলা হত তাহকে তাদেরও পিড়াশোনার প্রতি একটা চাপ থাকতো। করোনার পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হয়ে যাওয়ার কারনে হয়তো শিক্ষক এবং ছাত্রদের ক্লাসের প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।