লালমনিরহাটে জলিল হত্যার রহস্য উদঘাটন,পুলিশের কাছে নিহতের স্ত্রী ও প্রেমিক ডাক্তারের স্বীকারোক্তি

মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট ।।
লালমনিরহাট পুলিশের জেরায় স্বামী  হত্যাকান্ডে স্বীকারোক্তি দিলেন স্ত্রী মমিনা বেগম ও কথিত প্রেমিক গোলাম রব্বানী। প্রেমিক গোলাম রব্বানী ও মৃত জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
বুধবার ২৮জুলাই  লালমনিরহাট গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি) কথিত প্রেমিক গোলাম রব্বানি ও মৃতঃ জলিলের স্ত্রী মমিনা বেগম কে গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে প্রেরন করেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেন এএসপি (এ সার্কেল)মারুফা জামাল।পরে আসামীদের তথ্যমতে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন পুলিশের বিশেষ টিম।
এএসপি (এ সার্কেল)মারুফা জামাল জানান ঈদের দ্বিতীয় দিন ২২ জুলাই মৃতঃ আব্দুল জলিল ও কথিত প্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী এক সাথে ছিলেন,পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী কৌশলে মৃত আঃজলিল কে ০৮ টি ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দিয়ে গভীর রাতে বাড়ীতে নামিয়ে দেন। মৃতঃআঃজলিল বাড়ীতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।স্ত্রী মমিনা বেগম ঘুমন্ত অবস্থায় আঃজলিলের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন।সকালে মমিনা বেগম হার্ট এট্যাকে স্বামী জলিলের মৃত্যুর খবর তার পরিবার কে জানান।কথিত প্রেমিক গোলাম রব্বানী মৃতঃ আঃ জলিল কে গোসল করিয়ে তাড়াতাড়ি জানাযা দিয়ে দাফন সম্পন্ন করতে বললে, মৃত জলিলের দাফন তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়।
মৃত্যুর তিনদিন পর আঃজলিলের মিলাদ অনুষ্ঠানে তার বড় ভাই আঃরশিদ, মমিনা বেগমকে তাদের গ্রামের বাড়ি খুনিয়াগাছ নিয়ে যেতে চাইলে মমিনা বেগম যেতে অস্বীকৃতি জানায়। মমিনা বেগম জানায় সে এখানেই থাকবে এবং পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীকে বিবাহ করিবে।এই কথা মৃত জলিলের স্ত্রীর মুখে শুনার পর বড় ভাই আঃ রশিদের সন্দেহ জাগে।সন্দেহের জেরে আঃ জলিল কে হত্যা করা হয়েছে মর্মে বড় ভাই আঃরশিদ একটি অভিযোগ পুলিশ সুপার বরাবরে করেন।
আঃজলিলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সময় সংবাদ,কম ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে একটি  সংবাদ প্রকাশ করে,সেই সাথে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক এই সংবাদ প্রচার করলে পুলিশ প্রশাসন গুরুত্ব সহকারে ছায়া তদন্ত করে।পুলিশ ঘটনার গুরুত্বপূর্ন আলামত হাতে পেলে জলিল হত্যার সন্দেহ ভাজন আসামী স্ত্রী মমিনা বেগম,কথিতপ্রেমিক পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এএসপি(এ সার্কেল) মারুফা জামালের জিজ্ঞাসাবাদে মমিনা বেগম ও গোলাম রাব্বানী ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।পুলিশ ২৮জুলাই আসামীদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরন করে।
নিহত আঃজলিলের বড় ভাই আঃরশিদ তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করেন।