লালমনিরহাটে নিহত দুই বাংলাদেশীর লাশ ফেরত পেতে আত্মীয়স্বজনের সড়ক অবরোধ

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট।।
লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশীর লাশ ফেরত পেতে,নিহতের আত্মীয়স্বজন সড়ক অবরোধ করেছে আজ।এসময় বুড়িমারি শুল্ক বন্দর এলাকায় আমদানি রপ্তানিবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ মিনিট অবরোধ চলাকালে পাটগ্রাম থানার  পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়।
মঙ্গলবার ৩১আগষ্ট দুপুর দুটোয় লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি শুল্ক বন্দর এলাকায়,গত রবিবার ভোরে নিহত দুই যুবকের আত্মীয় স্বজন বুড়িমারি বিজিবি ক্যাম্প ও সড়ক অবরোধ করেন। লাশ ফেরতের দাবীতে বিজিবির বিরুদ্ধে অবরোধ কারীরা এসময় স্লোগান দেন। এসময় নিহত দুই যুবকের লাশ অবিলম্বে ফেরতের দাবী করেন।৩০ মিনিট অবরোধ চলাকালে চেকপোষ্ট এলাকায় পন্যবাহী ৩০/৪০টি ট্রাক আটকা পরে, এতে সীমান্তের দুই পারে ২০০ গাড়ী দীর্ঘ যানজটে পড়ে। পাটগ্রাম থানা পুলিশ দুদফায় চেষ্টা করে অবরোধ কারী দের সরিয়ে দেন।
ঘটনার সুত্রে জানা যায় গত ২৯ আগষ্ট ভোর রাতে বুড়িমারি সীমান্তের ডাঙাপাড়া ৮৪২নং পিলারের কাছে, বাংলাদেশী দুই রাখাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়,ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ )লাশ দুটি নিয়ে যায়।নিহতরা হলেন ডাঙাপাড়া এলাকার বুলবুল হোসেনের ছেলে ইউনুছ আলী (২৭)এবং নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ধনবর রায়ের ছেলে জগন্নাথ রায় সাগর (৩৫)।নিহতের আত্মীয়স্বজন গত দুদিন যাবত লাশ ফেরত পাবার জন্য বুড়িমারি বিওপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন,বিজিবি লাশ ফেরতের ব্যাপারে গত দুদিনে কোন স্বদত্তূর দিতে পারেন নি,ক্ষুদ্ধ আত্মীয়স্বজন
আজ দুপুরে বুড়িমারি বিওপি ক্যাম্প ও চেকপোষ্ট সড়ক অবরোধ করেন।
৬১বিজবি ব্যাটালিয়নের বুড়িমারি কোম্পানি কমান্ডার বেলাল হোসেন জানান,বিএসএফ ও আত্মীয়স্বজন মারফতে দুজন বাংলাদেশী সীমান্তে নিহত হবার খবর আমরা জানতে পেরেছি,আমরা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি,উপর মহলের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
নিহত বাংলাদেশী রাখাল ইউনুস আলীর পিতা বুলবুল ইসলাম বলেন,বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাতের মাধ্যমে বুড়িমারি কোম্পানি কমান্ডারের কাছে আমার ছেলের লাশ ফেরত চেয়ে রবিবার আবেদন করেছিলাম,সেদিন বিজিবি আমার আবেদন গ্রহন করেনি,পরদিন সোমবার পুনরায় আবেদন করলে তা বিজিবি গ্রহন করে।আজ দুদিন হলো বিজিবি আমার ছেলের লাশ ফেরত দেবার ব্যাপারে কোন স্বধত্তুর দিতে পারেনি। আমার আত্মীয় স্বজন ক্ষুদ্ধ হয়ে দুপুরের পরে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থান নেয়।এসময় পুলিশ সড়ক থেকে আমাদের সরিয়ে দেয়।
নিহত জগন্নাথ রায় সাগরের ক্ষুদ্ধ পিতা ধনবর রায় বলেন, আমার ছেলের লাশের জন্য গত দুদিন থেকে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে আছি,বিজিবি লাশ ফেরত দানের ব্যাপারে কিছুই বলছে না,আমি কি আমার ছেলের লাশ টুকু ফেরত পাবো না।
৬১বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃকর্নেল মীর হাসান শাহরিয়ার মাহমুদ কে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, তাকে না পাওয়ায় মতামত জানা যায়নি।