সেনবাগে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ১৩৮দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সেনবাগে মৃত্যুর ১৩৮দিন পর সঠিক কারণ জানতে ময়না তদন্তের জন্য বেলাল হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (৪ আক্টোবর ) দুপুর ২টার দিকে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মংচিংনু মারমার উপস্থিতে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। পরে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এদিকে লাশ উত্তোলনের খবর পেয়ে শতশত এলাকার শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এসময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

স্হানীয় একাধিক সূত্রে জানাযায়, সেনবাগের শায়েস্তা নগর গ্রামের মুজা মিয়া হাজ্বী বাড়ি (বাঁশ আলা বাড়ির) আবুল গোফরানের ছেলে বেলাল হোসেন  সঙ্গে একই এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ,তোফাজ্জাল হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন বাবু ও পার্শ্ববর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার লাউতলী গ্রামের আমিন উল্লাহ ছেলে মোশারফ হোসেনে সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। এর জের ধরে আসামিরা পরিকল্পিত ভাবে আবদুল গোফরানের ছেলে বেলাল হোসেনকে চলতি বছরের (১৬ মে) দাওয়াতের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা পরিকল্পিত ভাবে সেনবাগ উপজেলার নোয়াখালী মহাসড়কের আহম্মদিয়া ব্রিকফিল্ডের সামনে নিয়ে মাথায় আঘাত করে বেলালকে হত্যা করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরবর্তীতে তারা বেলাল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে বলে প্রচার চালায় এবং তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করে। এরপর আসামীদের গতিবিধি ও তড়িঘড়ি লাশ দাফনের বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় নিহতের বড়ভাই মোফাজ্জল হোসেন প্রকাশ উজ্জল বাদী হয়ে গত ২২আগষ্ট নোয়াখালী বিচারিক আদালতে সাইফুল ইসলাম , আরাফাত হোসেন বাবু ও মোশারফ হোসেন সহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনকে আসামি করে একটি সিআর মামলা নং ১৮৪২ দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সেনবাগ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেনবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নুর হোসেন অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ও মোশারফ হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে। তদন্ত কর্মকর্তা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্নয়ে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আবেদন করলে আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। সে মোতাবেক সোমবার (৪ আগষ্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মংচিংনু মারমার উপস্থিতে বেলালের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।