সোনাইমুড়ীর ইউপি নির্বাচনে হামলা, ব্যালট ছিনতাই,নৌকা ৮, স্বতন্ত্র ২ প্রার্থী বিজয়ী

খোরশেদ আলম শিকদার, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর ইউপি নির্বাচন প্রার্থীর উপর হামলা,ব্যালট ছিনতাই ও অস্ত্র উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে বুধবার ৫ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের ৮ জন এবং স্বতন্ত্র ২ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে ১০টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১০টি ইউপির মধ্যে ৪টিতে ইভিএম এবং ৬টিতে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। 
নৌকার বিজয়ীরা হলেন, জয়াগ ইউনিয়নে  শওকত আকবর পলাশ ৬২৮৩, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল গনি পাটোয়ারী চশমা ৫১৯৬ ভোট, নদনা হারুন অর রশিদ ৮৭৬৭, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুল ইসলাম হাতপাখা ২২৭৯, বারগাঁও শামছুল আলম ৪৭৮২, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইয়্যেদ আহমদ চশমা ৪৭৭১ ভোট, অম্বরনগর আকতার হোসেন দুলু ৪৫৩৩, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহজালাল আনারস ৩৫৫০ ভোট, নাটেশ্বর কবির হোসেন খোকন ৮৩১৫, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার হোসেন স্বপন আনারস ৩৫৬৭ ভোট, বজরা মীরন অর রশিদ ৭০৫৯, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইকবাল হোসেন চৌধুরী আনারস ৩০৮৫ ভোট, সোনাপুর আলমগীর হোসেন চৌধুরী ৪৪৩০, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুর রহিম ৩৯৩৮ ভোট, দেওটি নুরুল আমিন শাকিল ৫৪৩৫, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দিদার হোসেন মোটরসাইকেল ৩৮৫০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চাষিরহাটে মোঃ হানিফ মোল্লা আনারস ৩৩১০, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুর রহিম ভুঁইয়া নৌকা ৩১১৬ ও আমিশাপাড়া ইউপিতে খলিলুর রহমান আনারস ৪০০৭, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জহিরুল ইসলাম রজনীগন্ধা ৩৬৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দিয়ে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বারগাঁও ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ। তিনি বলেন, ফলাফল সীটে ঘষামাজা করে ভোটের অংক পরিবর্তন করা হয়েছে। অপর দিকে দেওটি ইউপির মোটরসাইকেল প্রতিকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দিদার হোসেন ও বারগাঁও ইউপির আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুন নবী ভুঁইয়ার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বারগাঁও ইউপির কাশিপুর কেন্দ্রে ২টি ব্যালেট বই ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষনিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকায় ব্যালেটগুলো পুনরায় বক্সে প্রবেশ করাতে পারেনি। এছাড়া নাটেশ্বর ইউপিতে নৌকা মার্কায় প্রকাশ্যে সীল মারার সময় প্রিজাইডিং অফিসারকে আটক করা হয়। চাষিরহাট ইউপিতে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে পৌরসভার পাপুয়া গ্রামের হানিফের ছেলে আবু বকর ছিদ্দিক প্রকাশ রবিনকে ১টি এক নলা বন্ধুকসহ নির্বাচনে ডিউটিরত স্ট্রাইকিং ফোর্স আটক করেছে। কোন কোন ভোটকেন্দ্রে নৌকায় সীল মারার জন্য বাধ্য করা,ইভিএমে ফিঙ্গার নেওয়ার পর ভোট দেওয়া হয়েছে বলে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অসংখ্য ভোটার অভিযোগ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য ভোট কেন্দ্রে ২/১টি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও বাকি কেন্দ্র গুলোর বাহির এবং ভিতরের পরিবেশ ছিল অনকটা নিরিবিলি।