টাকা আত্মসাতের মামলায় কারাগারে চেয়ারম্যান ইউছুফ ছৈয়াল

বিশেষ সংবাদদাতা।।
লক্ষ্মীপুরে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়ালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শামছুল আরেফিন এ নির্দেশ দেন। এর আগে এ মামলায় তিনি অস্থায়ী জামিনে ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর আদালতে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউসুফ হাওলাদার রূপম।
বাদীর আইনজীবী রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না জানান, বাদী ইউনুছ হাওলাদার রূপম অভিযুক্ত ইউছুফ ছৈয়ালের কাছে ৩২ লাখ টাকা পান। এনিয়ে কয়েকবার বৈঠকে বসলেও তিনি টাকাগুলো দেননি। এর আগে চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল বিষয়টি মিমাংসার আশ্বাস জানিয়ে আদালত থেকে দুই মাসের অস্থায়ী জামিন নেন। সোমবার (৪ জুলাই) আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন চেয়ারম্যান। বাদীর টাকা না দেওয়ায় আদালত জামিনের আবেদন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাটের মেঘনা নদীর লঞ্চ ও ফেরিঘাট রূপম ও ইউসুফ ছৈয়াল যৌথভাবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ঘাটটি ইজারা নেন।ঘাট ইজারা নিতে বাদী রূপম দুই দফায় ৩৩ লাখ টাকা চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন। কাগজপত্রে ইউছুফ ছৈয়ালের পরিবর্তে তার ভাতিজা বাবুল ছৈয়ালের নাম দেখা যায়। কারণ জানতে চাইলে ইউছুফ তখন রূপমকে জানান, চেয়ারম্যান হওয়ার কারণে নিজ নামে তিনি ইজারা নিতে পারবেন না। ইজারা নেওয়ার পর কয়েক মাস চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল রূপমকে ঘাটের লাভ্যাংশ দিলেও ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর থেকে তাকে লাভের ভাগ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এর কিছুদিন পরে রূপমের অংশীদারিত্বের কথা তিনি অস্বীকার করেন। এছাড়া তাকে ঘাটে যেতে নিষেধ করেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন। এতে বাধ্য হয়ে সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউসুফ হাওলাদার রূপম লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে ইউসুফ ছৈয়াল ও তার ভতিজা বাবুল ছৈয়ালের নামে ৩৩ লাখ টাকা পাওনা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য একাধিকবার ইউছুফ ও রূপম সদর মডেল থানায় লোকজন নিয়ে বৈঠকে বসেন। বারবারই তিনি টাকা দেবেন বলে জানান। সবশেষ গত ইউপি নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আদালতে মামলাটির হাজিরা ছিল। তখন বৈঠকের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি মীমাংসার কথা বললে জামিন পান। কিন্তু এরপরও তিনি টাকা ফেরত দেননি। আদালতে রূপম ৩৩ লাখ টাকা পাওনা বলে প্রমাণিত হয়। ওই টাকা না দেওয়ায় আদালত তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
