লক্ষ্মীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি।।
লক্ষ্মীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় দম্পতির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কতদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ ঘরে পড়ে আছে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ জানাতে পারেনি।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে সদর উপজেলার ১৬ নং শাকচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ছমিমিঝি বাড়ী থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মোঃ শাহাজান রহিম নামে একজন পালক সন্তান রয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ।
নিহতরা হলেন- আবু ছিদ্দিক (৭৩) ও তার স্ত্রী আতরের নেছা (৬৫)। পুলিশের ধারণা ৩ থেকে ৪ দিন আগে শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করা হয়েছে। হত্যার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে উল্লেখ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় শাকচর গ্রামের প্রবাস ফেরত ছিদ্দিক ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন থেকে ছমিমিঝি বাড়ির একতলা বিল্ডিংয়ে বসবাস করতেন। সম্প্রতি পৈত্রিক সম্পত্তি ভাইদের কাছে বিক্রি করার কথা চলছিল ছিদ্দিকের। ভাইদের সঙ্গে গত শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) এ নিয়ে কথা হয় ছিদ্দিকের। এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ভুট্টু চৌধুরী ও গিয়াস উদ্দিন জমি রেজিস্ট্রি বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ওই বাড়িতে আসেন। তারা দরজার বাইরে তালা দেখে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। এসময় ভেতর থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরে প্রতিবেশীরা জড়ো হয় এবং পুলিশ খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে প্রবেশ করে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পালক ছেলে মো. শাহজাহান জানায়, বাবা মায়ের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তিনি সবসময় লক্ষ্মীপুর শহরে নিজের শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। খবর পেয়ে রাতে তিনি এ বাড়িতে ছুটে আসেন।
স্থানীয় শাকচর ইউপি চেয়ারমান মাহফুজুর রহমান জানান, পুলিশ এসে তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। তাদের শয়ন কক্ষে আলমারি খোলা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল। জামাকাপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। মরদেহগুলো খাটের ওপর ছড়িয়ে রয়েছে। এই দম্পতিকে কেউ হত্যা করেছে। এ ঘটনাকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, স্বামী-স্ত্রীকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। একতলা বিল্ডিং এর ছাদের সিঁড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি রহস্যজনক। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুলিশ ও সিআইডি একসঙ্গে ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
