আপনার শিশুর দাঁতের পরিচর্যা

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।
শিশুদের দাঁত উঠার পর হতেই দাঁতের যত্ন নিতে শুরু করতে হয়। এই দায়িত্ব টা অভিভাবকদের। প্রাথমিক অবস্থায় পরিস্কার, নরম সুতি কাপড় দিয়ে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে সব দাঁত ভালভাবে পরিস্কার করে নিন। দিনে মিনিমাম ২ বার এভাবে করাবেন। প্রতিবারেই পরিস্কার সুতির কাপড় ব্যবহার করুন।
আর একটু বড় হলে যখন থেকে তারা কুলি করা শিখে যাবে, তখন থেকে শিশুদের উপযোগী ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিন এবং ভালভাবে কুলি করতে বলুন। এই সময়ে ফ্লুরাইড ফ্রি টুথপেস্ট ব্যবহার করুন, যাতে কিছু পেস্ট গিলে ফেললে ও সমস্যা না হয়!
মনে রাখবেন, শিশুরা নিজেরা কখনো ভালভাবে ব্রাশ করতে পারবে না, অভিভাবকদের ই করিয়ে দিতে হবে- সেটা দিনে ২ বার, সকালে নাস্তার পর ও রাতে খাবারের পর। আর প্রতিবার যে কোন খাবার খাওয়ার পরপর ই আপনার প্রিয় শিশু কে কুলি করতে অভ্যস্ত করে তুলুন।
শিশুরা যদি নিজেরা করতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে আগে করতে দিন এর ঠিক পর পরই আপনি অবশ্যই করিয়ে দিন। এতে তার সক্রিয় অংশ গ্রহণে সে খুশি হবে, আত্ম বিশ্বাস বাড়বে।
আমাদের বড়দের যেমন দিনে ১ বার ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করে দাঁতের মাঝখানের জমে থাকা খাবার প্রতিদিন পরিস্কার করতে হয়, শিশুদের ও তা প্রয়োজন এবং সেটি আপনিই করিয়ে দিন। সাধারণতঃ শিশুদের পেছনের দাঁত গুলোর ফাঁকেই খাবার জমে থাকে।
আরেকটা ব্যাপারে আমরা মোটেও সচেতন নয়, সেটা হলো শিশুদের দাঁতের চেক আপ নিয়ে। আমরা কেবল ব্যাথা হলেই তাদের নিয়ে ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হই এবং আপনারা সকলেই আমার সাথে একমত হবেন যে, এই ছোট্ট শিশুদের দাঁতের ট্রিটমেন্ট করা ডেন্টিস্ট এবং আপনার প্রাণপ্রিয় শিশু উভয়ের জন্যই সুখকর কোন অভিজ্ঞতা নয় মোটেও! তাই আমাদের উচিত শিশুদের দাঁত উঠার পর থেকেই আপনার বিশ্বস্ত ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হোন। তিনি আপনাকে সচেতন করার পাশাপাশি আপনার শিশুর দাঁতে যদি কোন ছোটখাটো প্রব্লেম থাকে তা মিনিমাম এপ্রোচে করে দিতে পারবেন, এতে করে দাঁতের চিকিৎসার প্রতি আপনার শিশুর মনে আর ভীতি জন্মাবে না আর আপনার শিশু ও সুস্থ থাকবে!
শিশুদের মুখে দাঁত নড়ে নতুন স্থায়ী দাঁত উঠা শুরু হয় সাধারণতঃ তাদের ৬ বছর বয়সে। নীচের সামনের দাঁত দিয়ে আগে শুরু হয়। এটি আরো আগে পরে ও হতে পারে। অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে এই ৬ বছর বয়স হতেই! প্রতি সপ্তাহে চেক করে নিন কোন দাঁত নড়ছে কিনা। যদি একটু নড়ে উঠে তাহলে শিশুকে বলুন সে নিজেই যাতে ওই নির্দিষ্ট দাঁত পরিস্কার হাতের আঙ্গুলে নাড়তে থাকে প্রতিদিন একেবারে লুজ না হওয়া পর্যন্ত। একদম লুজ হয়ে গেলে বাসায় ফেলে দিন অথবা ডেন্টিস্ট এর কাছে নিয়ে যান। এই নড়ে উঠা দাঁত একবার নড়ে আবার বসে গেলে/ ফিক্সড হয়ে গেলে বাইরের দিকে অথবা ভিতরের দিকে উঠবে নীচের স্থায়ী দাঁত, যা আমাদের কখনোই কাম্য নয়!
আর একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে বলে আজ শেষ করব ইন শা আল্লাহ। শিশুদের মুখে দাঁত থাকে মোট ২০ টা। আমরা সকলেই জানি প্রাপ্তবয়স্ক দের মুখে মোট দাঁত হলো ৩২ টা। প্রশ্ন হলো, এই বাকী ১২ টা দাঁত কখন গজায় আমাদের মাড়িতে? আসলে শিশুর ৬ বছর বয়সে উপরে ও নীচের চোয়ালে একদম পিছনের দিকে ডানে- বামে ২ টা করে মোট ৪ টা দাঁত উঠে। এরপর ১২ বছর বয়সে আরো ৪ টা এবং সব শেষে ১৭/১৮ বছর বয়সে আরো ৪ টা আক্কেল দাঁত উঠে। তখনই সর্বমোট ৩২ টা দাঁতে পরিপূর্ণ হয় একজন মানুষ! এজন্য আমরা সাধারণতঃ শিশুর ৬ বছর বয়সে উঠা পেছনের স্থায়ী দাঁত, যা একবারই উঠে- আর পড়বে না, সেই ব্যাপারে একদম বেখেয়াল থাকি! অথচ এই দাঁত খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাঁত যা সারাটি জীবন মুখে থেকে যাবে! এজন্য প্রতিদিন তাদের দাঁত ব্রাশ করিয়ে দেয়া আর নিয়মিত ৬ মাস পর পর ডেন্টিস্ট এর শরণাপন্ন হওয়ার আসলে কোনই বিকল্প নেই।
