আদমদীঘিতে গ্রামীন সড়ক গুলোকে গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালীদের পুকুর

হাবিব শিমুল, আদমদীঘি প্রতিনিধি:
বগুড়ার সান্তাহার পৌরসভা ও আদমদীঘি উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গ্রামীন সড়ক ঘেঁষে বিত্তশালী জমি মালিকদের খনন করা পুকুর গিলে ফেলছে সরকারি সড়কগুলো। কোন কোন এলাকার সড়ক ভেঙ্গে পুকুরের পেটে চলে যাবার কারনে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের পৌঁওতা, চাঁপাপুর ইউনিয়নের পালনকুড়িসহ বিভিন্ন সড়কের পাশের জমি মালিকরা পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন। এসব পুকুরের পানির ঢেউ এবং বৃষ্টিতে সড়ক ভেঙ্গে পুকুরের পেটে চলে গেছে এবং ক্রমাগত যাচ্ছে। এ বিষয়ে পুকুর মালিকগণ খনন নীতিমালা মানেন নি। পুকুর গুলো জনসাধারণ এবং সরকারের ব্যাপক ক্ষতি করলেও অনেকের মধ্যে কোন অনুশোচনা নেই বরং কোন কোন পুকুর মালিক খুশি হন। সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে পুকুরের পরিধি বাড়ছে বলে খুশি হন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন চাঁপাপুরের পালনকুড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ও কাজেম উদ্দিনসহ এলাকার অনেকে।
পালনকুড়ি সড়কের নাগর নদের পূর্ব পাশের পুকুর মালিক ফজলু দাবী করে বলেন, সড়ক নির্মান করা হয়েছে আমার পৈত্রিক জমির উপর। তার পরও আমি সড়ক রক্ষা করার জন্য বাঁশ-কাঠের খুঁটি দিয়ে প্যালাসাইডিং দিয়েছি। কিন্তু রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখন আমার পক্ষে কংক্রিটের বা ইটের দেয়াল দিয়ে এতো দীর্ঘ ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এছাড়াও পালনকুড়ি গ্রামের সড়কের পাশের খলিল মুন্সির পুকুরসহ পালনকুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত আরো কয়েকটি পুকুরে ভেঙ্গে পড়ছে সড়ক।
উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পাশের এসব পুকুর মালিকদের বক্তব্য, সরকারি সড়কের ভাঙ্গন সরকার কি ভাবে ঠেকাবে সেটা সরকারের ব্যাপার। আমরা তো সড়ক খনন করে পুকুর বানাই নি। নিজের জমিতে পুকুর করেছি। কিন্তু সরকারী আইন মোতাবেক কমপক্ষে তিন মিটার দূরে খনন এবং পুকুরের নিজস্ব চওড়া পার রাখার সম্পর্কে তাদের কেউ অবগত করে নি বলে দাবী করেন।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এর পূর্বে কেউ এ বিষয় নিয়ে কাজ করে নি। আমি এই উপজেলায় যোগদান করার পরই বিষয়টি আমার নজরে আসে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের গত মাসের সভায় আলোচনা করেছি। সিদ্ধান্ত পাশ হবার পর পুকুর মালিকদের সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি ভাঙ্গন রোধে প্রকল্প নেয়া হবে। সান্তাহার পৌরসভার প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল হক বলেন, উন্নয়ন তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে পৌঁওতা গ্রামের ওই ভাঙ্গন স্থানে রিটানিং ওয়াল নির্মানের মাধ্যমে সড়কের ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হবে।
