আদমদী‌ঘি‌তে চোর ধরে শালিস বাণিজ্য করার অভিযোগ

হাবিব শিমুল,আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ।।

আদমদীঘিতে চুরি করা মালামল বিক্রি করার সময় হাতেনাতে চোর ধরা পরার পরও একটি মহল অর্ধ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও সফল হয় নি। খবর পেয়ে পুলিশ দাগী চোর ফেরদৌস হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। এর পূর্বে ওই বাজারের একাধিবার চুরির ঘটনায় চোর ধরে বাজার কমিটি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শালিস বাণিজ্য করেছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা সদরের কুসুম্বী বাজারে বন্ধু টেডার্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউনের দেয়াল কেটে মঙ্গলবার রাতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় চোর ফেরদৌস হোসেন চুরি করা মালামাল পাশের বগারবাড়ী বাজারে বিক্রি করতে যায়। বাজারের ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হলে কুসুম্বি বাজারের ব্যবসায়ী গোডাউন মালিক ইদ্রিস আলীকে খবর দেয়। তিনি তাৎক্ষণিক বাজার কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলী ও সম্পাদক ফরহাদ হোসেনকে নিয়ে বগারবাড়ি বাজারে গিয়ে মালামালসহ ওই চোরকে আটক করেন। শুক্রবার রাতে বাজার কমিটি শালিসের নামে প্রহসন করে ওই চোরকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারীর জিম্মায় ছেড়ে দেয়।

এদিকে, কুসুম্বী বাজারে ইতিপূর্বে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটলেও আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বাজার কমিটি ও ইউপি সদস্য শালিস বৈঠকের মাধ্যমে আর্থিক জরিমানা করে চোরদের ছেড়ে দেয় এবং আদায় করা অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি চুরির ঘটনায় বাজার কমিটির লোকজন ও ইউপি সদস্য আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে চোরের পরিবারের নিকট মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আসছেন। এটা অনেকটা নিয়মে পরিনত করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় এই চুরির ঘটনায়ও বাজার কমিটি এবং ইউপি সদস্য ৬০ হাজার টাকা নিয়ে শালিসের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। স্থানীয় লোকজনদের চাপের মুখে পুলিশ চুরি যাওয়া মালামালসহ চোর ফেরদৌস হোসেনকে শনিবার গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া চোর কুসুম্বী গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে। গ্রেফতারের পরও শুরু হয় মামলা হওয়া না হওয়া রশি টানাটানি। অবশেষে রবিবার(২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।