রুট ক্যানেল চিকিৎসা কি ?

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা ।।
আমাদের দাঁতে ক্যারিজ বা আঘাতজনিত কারণে দাঁতের স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায় কিংবা দন্তমজ্জায় বা পাল্পে ইনফেকশন হয়। সেক্ষেত্রে অনেক সময় দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসার দরকার হয়ে পড়ে।
রুট ক্যানেল চিকিৎসা যে কারণেঃ
চিকিৎসা সম্পূর্ণ নির্ভর করে রোগীর দাঁতের অবস্থা কেমন তার ওপর। অনেক সময় দেখা যায় ক্যারিজ শুধু রোগীর দাঁতের এনামেল বা ডেন্টিনের সামান্য অংশে ছড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই অংশটুকু পরিষ্কার করে শুধু ফিলিং করে দিলেই চলে। কিন্তু যদি দেখা যায় ইনফেকশন দাঁতের পাল্প বা দন্তমজ্জা পর্যন্ত ছড়িয়েছে এবং রোগী তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন অথবা কোনো ধরনের আঘাতে রোগীর দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দাতের রঙ বদলে যাচ্ছে_ সেক্ষেত্রে রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
মূলত এই চিকিৎসায় দন্তমজ্জা ফেলে দিয়ে দাঁতের মধ্যকার সব ইনফেকশন উপযুক্ত পদ্ধতিতে পরিষ্কার করে বিশেষ ধরনের ওষুধ এবং ড্রেসিং দিয়ে দাঁতটিকে পুরোপুরি সিল করে এরপর বিশেষ ধরনের ফিলিং ম্যাটারিয়াল দিয়ে ফিলিং করে দেওয়া হয়।
রুট ক্যানেল চিকিৎসা নিয়ে অহেতুক ভীতি
অধিকাংশ রোগী রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট অপেক্ষা দাঁত ফেলে দেওয়াকে বেশি পছন্দ করেন। এর বেশিরভাগ কারণই হলো ব্যথার আতঙ্ক এবং চিকিৎসা খরচ । অথচ মজার ব্যাপার হলো, রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে ব্যথা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না। একজন দন্ত বিশেষজ্ঞ যদি কাজ শুরুর আগে রোগীর আক্রান্ত চোয়াল লোকাল অ্যানেসস্থেসিয়া দিয়ে সঠিকভাবে অবশ করে নেন, আপনার কোনো প্রকার ব্যথা অনুভবই করার কথা নয়। বরং কারণ ব্যতীত দাঁত ফেলে দিলে পরবর্তীতে ওই জায়গার আশপাশের দাঁত ফাঁকা হয়ে যাওয়া, কথা বলতে ও খাওয়া-দাওয়া করতে সমস্যাসহ নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।আর চিকিৎসা খরচ ডিপেন্ড করে অনেক কিছুর উপরে।  সাধারণত এই চিকিৎসা আমাদের দেশের আর্থিক অবস্থার দিক দিয়ে সবাই করাতে পারে আর সরকারি হাসপাতাল তো আছেই।  সুধু নিজের অবহেলায় কেনে দাঁত হারাবেন!!
রুট ক্যানেল পরবর্তী চিকিৎসাঃ
অনেকেই মনে করেন রুট ক্যানেল চিকিৎসায় পার্মানেন্ট ফিলিং দেওয়া হয়ে গেলেই সম্পূর্ণ ট্রিটমেন্ট শেষ। আসলে অনেক ক্ষেত্রেই তা নয়। কেননা রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে দাঁতের ভেতরের সম্পূর্ণ দন্তমজ্জাটুকু বের করে ফেলে দাঁতটিকে মৃত করে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে দাঁতটি খুব সহজেই ভেঙে যেতে পারে। এজন্য দাঁতের ওপর এক ধরনের কৃত্রিম মুকুট পরানো হয়, যাকে ক্রাউন বা ক্যাপ বলে, যা মৃত দাঁতের স্থায়িত্বকে বহু বছর বাড়িয়ে দেয়।
দাঁতে ক্রাউন যেভাবে করা হয়
বর্তমানে ক্রাউন ম্যাটারিয়াল হিসেবে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত হয় পোরসেলিন ফিউসড মেটাল বা সিরামিক। রুট ক্যানেলের পর দাঁতটিকে সঠিক আকৃতিতে কেটে নির্দিষ্ট আকার দেওয়া হয়। এরপর দাঁতের রঙের সঙ্গে রঙ নির্ধারণ করে দাঁতটির সঠিক ছাপ নিয়ে সেটা ডেন্টাল ল্যাব থেকে ওই আকৃতির ও নির্ধারিত রঙের ক্যাপ তৈরি করা হয়। যা ওই দাঁতের ওপর বসিয়ে বিশেষ ধরনের ডেন্টাল সিমেন্ট দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়। যদি আপনার ডেন্টাল সার্জন মনে করেন আপনার দাঁতের ওপরের অংশ অনেক বেশি ভাঙা বা দাঁত অনেক দুর্বল, সেক্ষেত্রে অনেক সময় দাঁতের গোড়ায় একটি মেটালের খুঁটি বসিয়েও ক্রাউন করা হয়। একে পোস্ট ক্রাউন বলে। এতে দাঁতটি আরও মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
চিকিৎসা-পরবর্তী দাঁতের যত্নঃ
কোনো বাড়তি যত্নের দরকার হয় না। নিয়মিত দু’বার সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ, মাড়ির যত্ন আর নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ।