খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক ।।
খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন খসড়া নীতি প্রণয়নের কাজ করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
ট্রান্সফ্যাট বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোরশেদ আহমেদ বলেন, খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিধান প্রণয়ন করা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং তা সম্পন্ন হতে ছয় মাস লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ গ্রামে সীমিত করার সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কমিটি কাজ করছে। বিভিন্ন কারখানার মালিক শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে আলোচনা করে সমন্বিত ভাবে এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। কোনভাবেই এ বিধিমালা চাপিয়ে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।
শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সর্বোত্তম নীতি অর্থাৎ সকল ফ্যাট, তেল এবং খাবারে প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্যাটে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ গ্রামে সীমিত করা, অথবা পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল- পিএইচও’র উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ক্যাব এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আহম্মদ একরামুল্লাহ বলেন, ‘ ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে কোনো নীতি না থাকায় ভোক্তা স্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। ভোক্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করার জন্য সরকার, ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিডার মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসরণ করে ভারত, থাইল্যান্ড, ব্রাজিলসহ অনেক দেশ খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতি করেছে। বাংলাদেশও এক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন,‘কানো অজুহাতেই ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা যাবেনা। ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের মাধ্যমে প্রতিবছর হৃদরোগের মারাত্মক ছোবল থেকে রক্ষা পাবে দেশের হাজারো মানুষ।’
ট্রান্সফ্যাট গবেষকরা বলছেন, সাধারণত প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ও বেকারি পণ্যে বিদ্যমান ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট এক ধরণের ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান যা রক্তের এলডিএল বা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ বৃদ্ধি করে। অপরদিকে এইচডিএল বা ‘ভালো কোলেস্টেরল’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণে খারাপ কোলেস্টেরল রক্তবাহী ধমনিতে জমা হয়ে রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ।-বাসস
