আজ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ।।
বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে আজ রবিবার(৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন।স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশেষ অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে সংসদ। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় সংসদের দুটি বিশেষ বৈঠক বসলেও এটাই হবে প্রথম বিশেষ অধিবেশন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে গত ২১ অক্টোবর একাদশ জাতীয় সংসদের এই দশম অধিবেশনটি আহ্বান করেন। ২০২০ সালের পঞ্চম এ অধিবেশনটিকে মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশন হিসেবে আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি।এর আগে ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ও ১৮ জুন সংসদে যে বিশেষ বৈঠক বসেছিল, সেখানে যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি বরাহগিরি ভেংকট গিরি ভাষণ দিয়েছিলেন।
অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠকটি চলবে সাধারণ অধিবেশনের আদলেই। ঐদিন অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন এবং শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
বিশেষ অধিবেশনের মূল পর্ব শুরু হবে সোমবার। এদিন সন্ধ্যায় সংসদে স্মারক বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ২০ মিনিটের ভাষণটি প্রচার করা হবে। রাষ্ট্রপতিও ভাষণটি শুনবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে একটি প্রস্তাব আনা হবে। ঐ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা পাশ করা হবে। বিশেষ অধিবেশনটি চার কার্যদিবস চলতে পারে।
সংসদ কক্ষে স্পিকার যেখানে বসেন, তার পেছনে উপযুক্ত জায়গায় জাতির জনকের প্রতিকৃতি মর্যাদার সঙ্গে প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করার জন্য ইতিমধ্যে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগস্টে হাইকোর্টের দেওয়া ঐ আদেশের কপি পাওয়ার পরপরই অধিবেশন কক্ষে ছবি টাঙিয়েছে সংসদ কর্তৃপক্ষ। তবে এরমধ্যে সংসদের অধিবেশন হয়নি। বিশেষ অধিবেশনই হবে প্রথম অধিবেশন, যেখানে সংসদ কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকবে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরাও প্রথমবারের মতো অধিবেশন কক্ষে জাতির পিতার ছবি দেখবেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্দেশনায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশন সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবন জীবাণুনাশক দিয়ে স্বাস্থ্যকর রাখা, সবার কভিড-১৯ টেস্ট করানোসহ এ উপলক্ষে গৃহীত নানা কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে সংসদ সচিবালয়।
কভিড-১৯ নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সব এমপি এই অধিবেশনে যোগ দেবেন। প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিদেশি কূটনীতিক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যসহ সমাজের বিশিষ্টজনকে সংসদ গ্যালারিতে বসে মুজিববর্ষের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদেরও এ অধিবেশন কভার করতে সুযোগ দেওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে কভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সবাই কভার করতে পারবেন।
