লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক নারী পাচার কারী দলের ০৩ সদস্য আটক

মিজানুর রহমানঃ

আন্তর্জাতিক নারী পাচার কারী দলের সক্রিয় ০৩ সদস্য কে আটক করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।পাচারকারী দলের মুল হোতা এখনো ধরা না পরায় পুলিশ তাকে খুঁজছে।

রবিবার(২২মে) সকালে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানা পুলিশ আন্তর্জাতিক নারী পাচার কারী দলের ০৩ সদস্য কে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে সোপর্দ করে।শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই আসামীদের গ্রেফতার করে।আসামীরা হলেন দহগ্রাম ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামের মৃতঃ ওমর আলীর পুত্র আশরাফুল আলম (৩২),মুন্সিপাড়া গ্রামের মৃতঃ ফজলুল হকের ছেলে মোকছেদুল হক(২৮),এবং পাটগ্রাম পৌর এলাকার জুম্মাপাড়ার শফিক হোসেনের স্ত্রী  চম্পা বেগম (২৫ )। বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

ঘটনার সুত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সোহেল (২৮) নামের যুবকের সাথে পাটগ্রাম উপজেলার এক নারীর তিনবছরের সম্পর্ক্যের সুত্র ধরে তাদের বিয়ে হয়।প্রতারক সোহেল শ্বশুড় বাড়ী হবিগঞ্জ নিয়ে যাবার কথা বলে কৌশলে সাতক্ষীরা  সীমান্ত দিয়ে ঐ নারীকে ভারতে পাচার করে,ভারতের পতিতালয়ে ঐ নারীকে দিয়ে সোহেল জোর করে পতিতা বৃত্তি করায়।দীর্ঘ ০৯মাস পর ঐ নারী কৌশলে পালিয়ে এসে দহগ্রাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী দলের সদস্য সোহেল ঐ নারীকে পুনরায় ফুসলিয়ে ভাল কাজের কথা বলে গত ১৩মে পাটগ্রাম উপজেলার  দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পাচার করে।এসময় ঐ নারীকে পাচারকারী দলের সদস্য মোকছেদুল কয়েক দফা ধর্ষন করে, ভুক্ত ভোগী ঐ নারী    ভারতে যাবার পর বুঝতে পারেন এবারও তার স্বামী সোহেল নারী পাচারকারীদের কাছে তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন, ঐ নারী ১৫মে কৌশলে বাংলাদেশে ফেরত আসেন এ সময় পাচারকারী দলের সদস্য আশরাফুল কয়েক দফা ঐ নারীকে ধর্ষন করে এবং ঐ নারীকে আটক রেখে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাটগ্রাম থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ নারী পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য ০৩জন কে আটক করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুখ ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান,নারী পাচারকারী দলের মুল হোতা হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের কিবরিয়ার পুত্র সোহেল কে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ  অনুযায়ী ইতিমধ্যে ০৩জন আসামী কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের সীমান্তে নজর দারি দুর্বল থাকায় আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী দল সহ মাদক মাফিয়াদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে।প্রশাসনের তীক্ষ্ণ নজরদারি দরকার স্থানীয়দের।