পদ্মা সেতু উদ্বোধন, স্বপ্ন হল সত্যি

অনলাইন ডেস্ক।। ২৫ জুন, ২০২২:

অপেক্ষার প্রহর গোনা শেষ। স্বপ্ন হল সত্যি। এক নতুন ইতিহাস তৈরি করল বাংলাদেশ। দেশের মানুষের জন্য খুলে দেওয়া অনেক সম্ভাবনার এক নতুন দরজা।

প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার সকালে মাওয়া প্রান্তে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ফলক উম্মোচন করেন, যেখানে বিদেশী কূটনীতিকসহ হাজার হাজার বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক, প্রকৌশল এবং রাজনৈতিক ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দীর্ঘতম সেতুটি উদ্ধোধন করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ আজ তার স্বপ্ন পূরণ প্রত্যক্ষ করছে।

এদিন নিজেদের অর্থে নির্মিত স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক বাধা-বিপত্তি, অনেক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আজ এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি আমরা। এই সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে আমার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। সেই যন্ত্রণা সহ্য করেই আমরা এগিয়ে গিয়েছি। এই সেতু পদ্মার দুই পাড়ের মধ্যে বন্ধন তৈরি করেনি, গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছে। বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছি, আমরাও পারি। পদ্মা সেতু আত্মমর্যাদা আর বাঙালির সক্ষমতার প্রমাণ নয়, পুরো জাতিকে অপমান করার প্রতিশোধও। দেশের জনগনই আমার সাহসের ঠিকানা। আজকের এই শুভলগ্নে তাই তাঁদের কুর্ণিশ জানাই।’

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিম এবং অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগকারী যমুনা নদীর উপর ১৯৯৮ সালে এ যাবত কালের দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু চালুর ২৫ বছর পরে তিনি আরো দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করলেন।

বেশ কিছু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিশ্লেষক এমনকি কিছু বিদেশী অংশীদারদেরও অনুমান ছিল যে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত , শক্তিশালী পদ্মা বিজিত হয় এবং উভয় তীরের মানুষ এখন আর অসহায় থাকবে না, কারণ তারা উভয় পাড়ের সাথে সংযোগ পেয়েছে।

রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সেতুর উপর দিয়ে মাত্র ৬ মিনিটে ফেরি ঘাটের ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন ছেড়ে সড়কপথে সরাসরি ঢাকায় যাবেন।

স্বপ্নের সেতু শুধু রাজধানী ঢাকা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগই স্থাপনই করবে না এটি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ ও বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেবে।

এছাড়াও সেতুটি সাধারণভাবে দেশের পাশাপাশি বিশেষ করে ২১ টি জেলার জন্য সমৃদ্ধি আনতে ভ্রমণের সময় এবং অন্যান্য খরচ কমিয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে থিম সঙ বাজানো হয় এবং পদ্মা বহুমুখী সেতুর উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।