কুমিল্লায় চাটখিলের যুবক’কে পিটিয়ে হত্যা, মাটি চাপা দেয়ার সময় আটক তিন পুলিশ

নোয়া সংবাদ: কুমিল্লায় চাটখিলের যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয়রা। তারা জানায়, আটক তিন কনস্টেবল মরদেহ মাটি চাপা দেয়ার চেষ্টা করছিল। ঘটনাটি দেখে ফেলে ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। তবে পালিয়ে যায় তাদের এক সহযোগী।
গতকাল (১০মার্চ,২০১৭ইং)শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সদর উপজেলার বালুতুপা চাপাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক পুলিশ সদস্যদেরকে কোতয়ালি থানায় আটক রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারা।
নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম মো: রাসেল গাজী (২২)। সে নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার হাতরিয়া বাড়ীর রফিক উল্যাহ গাজীর ছেলে বলে তার জেঠাতো ভাই চাটখিল বাজারের মোটর মেকানিক মো: হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রাসেল ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী ছিল বলেও জানা যায়। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে চার পুলিশ সদস্য এক মোটরসাইকেল চালককে সদর দক্ষিণ উপজেলার ভারতের সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে ধাওয়া করে নিয়ে আসে। পরে জেলা সদরের বালুতুপা এলাকা সড়কে এসে মোটরসাইকেল চালক যুবক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যান। এরপর যুবকটি দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের চার সদস্য তাকে ধাওয়া করে বালুতুপার চাপাপুর একটি ফসলি জমিতে নিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে। হত্যার পর মরদেহটি মাটিচাপা দিতে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের চার সদস্যকে ঘিরে ফেলে। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসী তিনজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় উত্তেজিত লোকজন চার পুলিশ সদস্যকে বহনকারী গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং পরে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এলাকাবাসী ধরিয়ে দেয়ার পর তিন কনস্টেবলকে আটক রাখা হয়েছে। তারা এ হত্যায় সরাসরি জড়িত। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ’
