লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা !

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় সালেহা বেগম (২৮)নামে এক গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে। গৃহবধূর পরিবারের দাবি, যৌতুক না দেয়ায় তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে হত্যার চেষ্টা করেছে স্বামী লোকমান।
গত রোববার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার চর আবাবিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ গৃহবধূক বর্তমানে লক্ষীপুর সদর হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছে। গৃহবধূ সালেহা একই গ্রামের আব্দুল খালেক মোল্লার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে চরআবাবিল গ্রামের গাজী বাড়ীর লোকমান গাজীর সাথে সালেহার বিয়ে হয়। তারা স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই ঢাকায় প্রায় ৮ বছর গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি অন্যত্র বিয়ে করেন লোকমান। এ নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ চলছিল। রোববার সকাল ১১ টার দিকে লোকমানের ঘরে সালেহার শরীরে অগ্নিদগ্ধের খবরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গৃহবধূর বাবা আবদুল খালেক মোল্লা জানান, বিয়ের পর লোকমান ঢাকায় ব্যবসা করার কথা বলে দু’দফায় ৮০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। সম্প্রতি বাড়িতে এসে ঘর নির্মাণের কথা বলে লোকমান স্ত্রী সালেহার কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সালেহা তার জমানো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিলেও বাকী টাকার জন্য লোকমান তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমাণ্যদের একাধিক বার জানানো হয়। যৌতুক না দেয়ায় তার মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে একাধিকবার লোকমান গাজীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, আগুনে পুড়ে সালেহা বেগম নামে রোগীর গলা, বুকসহ শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
