“নরমাল ডেলিভারি ও এর বিড়ম্বনা “

ডাঃ রেহানা আলম,চট্টগ্রাম।।

গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মায়েদের এবং তার আশপাশের  মা খালা দের একটা কমন প্রশ্ন থাকে ডেলিভারি নরমাল হবে তো?

হ্যাঁ অবশ্যই হবে তবে সেখানে কিছু বাস্তবতা কাজ করে যা সবার বুঝতে হবে।  প্রথমেই বলে রাখি সেই সব মায়েদের নরমাল ডেলিভারি সম্ভব যে সব মায়েদের ডেলিভারির ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা থাকবে। এখানে আহ্লাদের কোন স্থান নাই। যদি এই ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা আপনার থাকে তবে পরের কথাগুলো আপনার জানা অত্যন্ত জরুরি –

১।  বাচ্চার বর্তমান শারীরিক  অবস্থা কেমন? এবং পজিশন ঠিক আছে কি না?

২।সর্বশেষ আল্ট্রাসনোগ্রাফী রিপোর্ট অনুযায়ী আপনার বাচ্চার ওজন কত, বাচ্চার মাথার মাপ  ৯০ এর মধ্যে আছে কি না?

৩। আপনার উচ্চতা কেমন?  কারন  কম উচ্চতার মায়েদের অবস্ট্রাকটেড লেবার বা বাচ্চা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি। ( অবস্ট্রাকটেড লেবার নিয়ে পরবর্তীতে বিষদ আলোচনা করা হবে।) ইনশাআল্লাহ।

৪। আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা যেমনঃ উচ্চরক্ত চাপ,  ডায়াবেটিস ইত্যাদি আছে কি না।

৫। আগের সিজারিয়ান এর ইতিহাস আছে কি না।

এসব বিষয় মাথায় রেখে আপনাকে এগুতে হবে একটা সফল নরমাল ডেলিভারির দিকে। যেখানে একজন মা একটা সুস্থ সবল বাচ্চাকে পৃথিবীর আলো দেখাবে।

যেহেতু এটা ৮-১২ ঘন্টার একটা লম্বা প্রক্রিয়া তাই রুগী, রুগীর মা খালাদের  যথেষ্ট ধৈর্য্যের পরিচয় দিতে হবে।

রুগী এবং তার আত্নীয় স্বজন যখন সঠিক সময়ের আগে ধৈর্য্য হারা হয়ে যাবেন মনে রাখবেন তখনি আপনি আপনার বিপদ নিজে ডেকে আনলেন।

অনেক সময় সব কিছু ঠিক থাকলে ও নরমাল ডেলিভারির প্রক্রিয়াটা একটা সময় এসে থেমে যায়  যেটাকে মেডিকেল ভাষায় বলা হয় অবস্ট্রাকটেড লেবার ( বাচ্চা আটকে যাওয়া) এখানে ডাক্তার এবং রুগী কারোর কিছু করার থাকেনা।  সেই কঠিন সময়ে মা এবং বাচ্চা দুজন কে ভাল রাখতে সিদ্বান্ত নিতে হয় দ্রুত সিজারিয়ানের। এই কঠিন সময়ে রুগীর যেমন সবচেয়ে ভরসাস্থল তার ডাক্তার। একজন ডাক্তারকে   সাহস যোগানোর সবচেয়ে ভরসার মানুষ হচ্ছেন রুগীর স্বজনরা। তাই বাস্তবতা বুঝে সবার উচিৎ জীবনের এই কঠিন সময় গুলো পাড়ি দেওয়া।

আসলে আমরা মানবজাতি সবসময় সবকিছু যেভাবে চাই সেভাবে ঘটেনা। তাই সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকা একজন সচেতন মানুষের  দায়িত্ব।

লেখক-

ডাঃ রেহানা আলম,

প্রধান চিকিৎসক,

জে. কে. হেলথ কেয়ার সেন্টার,চট্টগ্রাম।