লালমনিরহাটে শ্রমিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রন নিয়ে মালিক শ্রমিক মুখোমুখি

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাট বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দখল নিয়ে মালিক শ্রমিক মুখোমুখি অবস্থানে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে।
১৫ মে শুক্রবার দুপুর বারোটায় বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারন-সম্পাদক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে দুইশতাধিক পরিবহন শ্রমিক জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় শ্রমিক নেতারা লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের পদত্যাগ দাবী করেন।
বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, মালিক সমিতির কতিপয় সদস্য পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন।করোনা ভাইরাসের কারনে টানা লকডাউনে কর্মহীন শ্রমিকরা এই দুর্দিনে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোন সহায়তা পাচ্ছেন না।তাই বাস মালিক সমিতি কমিটির বিলুপ্তি চেয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিক নেতারা ।
লালমনিরহাট বাস মালিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে বলেন,বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির বৈধতা নেই, দীর্ঘদিন যাবত অনির্বাচিত এই কমিটি শ্রমিক কল্যান তহবিল,সদস্য নবায়ন সহ সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি করে নিজেদের অর্থ সম্পদ গড়েছেন। করোনা দূর্যোগে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মহীনতায় কল্যান তহবিল থেকে সহযোগিতার জন্য সাধারন শ্রমিকরা মানব বন্ধন করে।কিন্তূ বর্তমান কমিটির সভাপতি- সম্পাদক কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা না করে, সরকারের ত্রানের উপর নির্ভর করে নিজেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।সাধারন শ্রমিকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন।শ্রমিকদের নৈতিক আন্দোলনে মালিক সমিতি সমর্থন জানিয়েছে ।মালিক সমিতির কমিটির পদত্যাগ চাইবার অধিকার অবৈধ শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটির নেই, এটি সম্পূর্ন্য বাস মালিকদের একান্ত বিষয় বলে মালিক সমিতির এই নেতা জানান।
সাধারন শ্রমিকদের আন্দোলন নস্যাৎ করতে, শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক,সন্ত্রাশীদের মদত নিয়ে বহিরাগত ক্যাডার দিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের হুমকি, ধামকি দিচ্ছে বলে সাধারন শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। সাধারন শ্রমিকদের আন্দোলন থেকে সরে যাবার জন্য মহড়া চলছে শহড়ে।জাতীয় শ্রমিক লীগ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম দুলু এই প্রতিবেদক কে বলেন,পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা ঠেকাতে এবং শ্রমিক নন এমন বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে পুলিশ সুপার মহোদয় কে অনুরোধ করেছি।বর্তমান বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যে কমিটি রয়েছে তার মধ্যে এক চতুর্থাংশ সদস্য এই কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে স্বাক্ষর করেছেন, ফলে শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রন নিতে বহিরাগত সন্ত্রাশী দ্বারা অরাজকতা করার পাঁয়তারা করছে তারা।
সাধারন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন রত শ্রমিক নেতা তিস্তা পরিবহনের চালক বাপ্পীর বরাত দিয়ে জানা যায়,লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার সাথে সাধারন শ্রমিকরা সাক্ষাৎ করলে,বহিরাগত কোন সন্ত্রাশী গোষ্ঠি শ্রমিক সেক্টর কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। যারা প্রকৃত শ্রমিক তারাই শ্রমিক সংগঠন নিয়ে কথা বলে সমস্যার সমাধান করবেন।করোনা দূর্যোগে কোন প্রকার অরাজকতা সহ জমায়েত পশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন।
