সরকারের ত্রান সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা দিয়ে লালমনিরহাটে এগিয়ে স্বপন, সুজন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
করোনা দূর্যোগকালীন সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি,ব্যাক্তি উদ্যোগে মানবিক সাহায্য দিয়ে লালমনিরহাটে এগিয়ে আছেন কামরুজ্জামান সুজন ও রেজাউল করিম স্বপন।
রবিবার ২৪মে, রাত পোহেলেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।করোনা মহামারী দুর্যোগের পাশাপাশি দুদিন আগে বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোনে স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই ব্যাহত।তাই এবারের ঈদে বাস্তবতার চিত্রটা ভিন্ন, গত দশবছরে বাংলাদেশের সামাজিক পেক্ষাপটে অন্যের উপর হাত পেতে চলা মানুষের সংখ্যা কমে এসেছিল নিম্নধাপে, এবার তার চিত্র পুরোপুরি উল্টো।ঈদ কে সামনে রেখে শত শত মানুষ ত্রানের জন্য এদিক সেদিক দল বেঁধে যেমন ছুটছেন, আবার বিত্তবান মানুষের বাড়ীর সামনে ত্রানের জন্য শত শত ত্রান প্রত্যাশী মানুষের অধীর অপেক্ষায় সামাজিক দুরত্ব না মেনে বসে থাকার চিত্রটা ফুটে উঠেছে যত্রতত্র।
করোনা মহামারি দূর্যোগে টানা ষাটদিনের দীর্ঘ লকডাউনে লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন।নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ তাই তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে।সরকার করোনা দূর্যোগ মোকাবেলায় সকল পেশার মানুষের জন্য নানা প্রণোদনা ঘোষনার পাশাপাশি, ত্রান সহায়তা দেন।এই ত্রান সহায়তা বৃহত জনগোষ্ঠির মানুষের জন্য অপ্রতূল্য হওয়ায় সরকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সরকার প্রধানের ঘোষনার পরপরই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন এবং লালমনিরহাট জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর পরিচালক রেজাউল করিম স্বপন ব্যাক্তি উদ্দোগে জনগনের পাশে দাঁড়ান।সাধারন মানুষকে কোভিড-১৯ সম্পর্ক্যে ধারনা দিতে এবং ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজ সরবরাহ করেন সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও লালমনিরহাট পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে।এর পাশাপাশি লালমনিরহাট পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন্য স্থানে জীবানুনাষক ছিটানো,হাত ধোঁয়ার জন্য দশ হাজার পিস সাবান সরবরাহ করেন রেজাউল করিম স্বপন।
সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন লকডাউন চলাকালীন সময়ে প্রতিটি পরিবারে ত্রান সহায়তা পৌছে দিতে, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত দুর্গম চরাঞ্চলে ছুটে চলেন।সরকারি সহায়তার পাশা পাশি ব্যাক্তি উদ্দোগে দশ হাজার পরিবার কে ত্রান সহায়তা দিয়ে কর্মহীন পরিবারের পাশে দাঁড়ান।দীর্ঘ দিন কর্মহীন থাকায় বেকার এবং খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের সংখ্যা এত চাপ ছিল যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে,ফলে বৃহত জনগোষ্ঠীর অনাহারি মানুষের চাপ সরকারি সহায়তায় মোকাবেলা করাটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, মানুষের এই সংকটে ব্যাক্তি উদ্দোগে মানবিক সাহায্য নিয়ে দাঁড়ান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন।
লালমনিরহাট জেলা সদর ও পৌরসভায় সবচেয়ে বেশী কর্মহীন মানুষের চাপ থাকায় প্রশাসন কে হিমসিম খেতে হয়।নানা পেশার মানুষ কর্মহীন হওয়ায় খাদ্য সরবরাহ করাটা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়,নিম্ন বিত্ত নানা পেশার এই মানুষদের পাশে বিরামহীন ভাবে ত্রান সহায়তা নিয়ে ব্যাক্তি উদ্দোগে এগিয়ে আসেন তরুন সমাজ সেবক রেজাউল করিম স্বপন।লালমনিরহাট পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের প্রতিটি অনাহারী লোক কে খাদ্য পৌছে দেবার মানবিক কাজটি করেন তিনি।লালমনিরহাট পৌরসভার বিশ হাজার মানুষ কে কয়েক দফায় ত্রান পৌছে দেন তিনি,এছাড়া সুবিধা বঞ্চিত হরিজন সম্প্রদায়, হিজরা সম্প্রদায়, রবিদাস,নরসুন্দর,পরিবহন শ্রমিক হোটেল শ্রমিক, ইজি বাইক শ্রমিক,পৌর এলাকার সকল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিন সহ নানা পেশার মানুষদের হাতে ত্রান পৌছে দেন রেজাউল করিম স্বপন।
দীর্ঘ ষাটদিনের লক ডাউনের মধ্যে সর্ববৃহত ধর্মীয় উৎসব ঈদ কে ঘিরে শুরু হয় নতুন সংকট।এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন ও তরুন সমাজ সেবক রেজাউল করিম স্বপন, লালমনিরহাট পৌরসভা ও সদর উপজেলার দশ হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী পৌছে দেন নিজস্ব উদ্দোগে।প্রতিটি পরিবারে দুই কেজি পোলাওর চাউল,হাফ কেজি চিনি,হাফ কেজি সেমাই,একটি দুধের কৌটা,হাফ লিটার তেল দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচহাজার শাড়ী লুঙ্গি বিতরন করেন রেজাউল করিম স্বপন।
দীর্ঘ দুইমাস যাবত করোনা দূর্যোগকালীন সময়ে, লালমনিরহাটের নিম্নবিত্ত শ্রমজিবী বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে সরকারের সহায়তার পাশাপাশি, তাদের এই উদ্দোগ সাধারন মানুষের মাঝে এগিয়ে রেখেছে তাদের।
