ব্রেন টিউমার কি,কারন ও লক্ষণ

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।

ব্রেন টিউমার কি ?

ব্রেন টিউমার মস্তিষ্কে কোষের সংগ্রহ বা বস্তু। যখন কোষের বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় তখন ব্রেন টিউমার সৃষ্টি হয়। ব্রেন টিউমার দুই ধরনের হয়। এক হলো ক্যান্সারযুক্ত অর্থাৎ ম্যালিগন্যান্ট আরেকটি ক্যান্সারহীন অর্থাৎ বিনাইন। ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমার বৃদ্ধি পেলে তা মস্তিষ্কের ভেতরে চাপ বাড়িয়ে তোলে। এটা আমাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

এর লক্ষণগুলো কি কি?:- 

মাথা ব্যথা প্রায় সবার কম-বেশি হয়ে থাকে। তবে সব ধরণের ব্যথা টিউমারের লক্ষণ নয়। ব্রেন টিউমার হলে তীব্র মাথা ব্যথা হয় এবং তা সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এই ধরণের মাথা ব্যথা টিউমারের একটি সাধারণ লক্ষণ। ব্রেন টিউমারের মাথা ব্যথা সাধারণত সকালের দিকে হয় এবং পরে তা ক্রমাগত হতে থাকে। এছাড়াও রাতে শোয়ার সময় পর্যন্ত ব্যথা থাকে।

কোনো কারণ ছাড়া বমি হওয়া এবং তীব্র মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। কথা বলতে অথবা শুনতে সমস্যা হতে পারে। ব্রেন টিউমার হলে মাথা ঘোরায় যার ফলে পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। ব্যক্তির আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। ভুলে যাওয়া ব্রেন টিউমারের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। ঘন ঘন রেডিয়েশন অথবা এক্স-রে নেয়া হলে এই রোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্রেন টিউমার কেন হয়:-

ব্রেন টিউমারের কারণ এখন পর্যন্ত অজানা। খারাপ টিউমার শরীরের অন্য জায়গা থেকে ক্যান্সারের রূপ নিয়ে ব্রেনের মধ্যে চলে যায়। বংশগত কারণেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।

কাদের ক্ষেত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি? বাংলাদেশে এর প্রকোপ কেমন:- কিছু টিউমার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়।

মহিলাদের ক্ষেত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউমারটি একেক রকমভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়।

এক কথায় বলতে পারি, যে কোনো বয়সের, যে কোনো পুরুষ বা মহিলার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে।

এটা সত্যি দুঃখজনক যে, বাংলাদেশে ক্রমশ আমরা এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।

ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব:-

ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য।

ব্রেন টিউমার চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের আকার, অবস্থান এবং ধরনের ওপর। যেমন, ম্যালিগন্যান্ট ব্রেন টিউমারের সাধারণ চিকিৎসা হলো সার্জারি। এটি ব্রেনের কোনো অংশ ক্ষতি না করে ক্যান্সার অপসারণে সহায়তা করে।

কিছু টিউমার এমন জায়গায় থাকে যেগুলো অপসারণ করা সহজ আবার কিছু এমন জায়গায় অবস্থান করে যেগুলো সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। সার্জারিতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে, যেমন ইনফেকশন এবং রক্তক্ষরণ। বিনাইন টিউমার অস্ত্রোপচার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।