করোনায় মানবিক পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক।।

লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ তাদের ফেইসবুক আইডিতে ‘‘করোনায় মানবিক পুলিশ’’ একটি কলাম লিখেছেন যা নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হল:

সাধারণভাবে পুলিশ বলতে আমাদের মনে এমন কিছু মানুষের চিত্রকল্প তৈরি হয় যারা অস্ত্র হাতে আপরাধীদের সঙ্গে লড়াই করে। জনপ্রিয় গণমাধ্যম, সিনেমা কিংবা নাটক সবখানেই পুলিশকে ‘ক্রাইম ফাইটার’ হিসেবেই দেখানো হয় যা জনগণের মনে পুলিশের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এককেন্দ্রিক ধারণার সৃষ্টি করে। তাই আমাদের সমাজে প্রথম দৃষ্টিতেই পুলিশকে ‘ক্রাইম ফাইটার’ এর চরিত্রের বাইরে অন্যান্য দায়িত্বে ভাবাটা কঠিন। যদিও অপরাধ প্রতিরোধের বাইরে পুলিশের রয়েছে নানা দায়িত্ব যেখানে অপরাধ দমন একটা অংশ মাত্র। বিভিন্ন জরুরি অবস্থায় যেমন হরতাল, দাঙ্গা, মিছিল-মিটিং, অবৈধ জনসমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা আমাদের নজরে আসে।

এর বাইরেও সনাতনভাবে বাংলাদেশের পুলিশ অপরাধ তদন্ত, ভিআইপিদের নিরাপত্তা, পুলিশী টহল বা পেট্রোল, নজরদারিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পুলিশের কার্যক্রম দেখে এটাই মনে হবে যে এমন কোনো কাজ নেই যা পুলিশ করেনা। তাই পুলিশ এক্সপার্টরা অনেকক্ষেত্রেই পুলিশের কাজ ‘নোংরা কাজ’ বলেও বিবেচিত করেন। সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশ আইন, বিধি, নীতিমালাতে নির্ধারিত পুলিশের ভূমিকা ও দায়িত্বের বাইরেও পুলিশকে বহু কাজ করতে হয়।

কিন্তু মহামারীর মত একটা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পুলিশের কি কোন ভূমিকা আছে? আইনিকাঠামো অনুযায়ী পুলিশ হল এমন একটা সরকারি আইনপ্রয়োগকারী বাহিনী যারা জনগণের সাস্থ্য, সম্পদ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ এবং সমাজিক বিচ্যুতি প্রতিরোধ করে। অপরাধ বিশ্লেষণ, গ্রেফতার এবং টহলের বাইরেও পুলিশ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকে (জাতিসংঘ)।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে, তারা অপরাধ ব্যবস্থাপনার বাইরেও আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকে যা বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অনেক বেশি দৃশ্যমান আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের সবার কাছে পুলিশের নানাবিধ কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে। অনেকে পুলিশের এই কর্মকাণ্ডের জন্য ‘মানবিক পুলিশ’ শব্দটিও ব্যবহার করছে যা জনগণের কাছে পুলিশকে প্রশংসিত করেছে। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে করোনাকালে পুলিশের সকলক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অগ্রণী ভূমিকা পুলিশের ভাবমূর্তি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির প্রথম থেকেই পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকার ঘোষিত লকডাউন নিশ্চিতকরণ, ত্রাণ বিতরণ, লাশ দাফনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা প্রদানে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি। কৃষকের জমিতে ধান কাটার জন্যও পুলিশ সদস্যদের পাঠানোর ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এর বাইরেও বাংলাদেশ পুলিশ যে বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তা হলো করোনায় মৃতদের সৎকার ও দাফন নিয়ে সাহসী কার্যক্রম। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে পরিবার আত্মীয় পরিজনরা যেখানে মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনে গড়িমসি করছে, পালিয়ে গেছে, সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা কাজ করে গেছেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফনের বিভিন্ন সাহসী খবরও প্রচার হচ্ছে প্রচারমাধ্যমগুলোতে।

সূত্র:লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ