ফটিকছড়িতে কোভিড-১৯ হাসপাতাল করার পরিকল্পনা সময়ের সেরা উদ্যোগ

নজরুল ইসলাম,ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি।।

ফটিকছড়িতে কোভিড-১৯ হাসপাতাল করার পরিকল্পনা,যা ফটিকছড়িবাসীর জন্য সময়ের সেরা উদ্যোগ।এখন এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হওয়া একমাত্র চাওয়া।

ফটিকছড়ি দেশের অন্যতম সর্ব বৃহৎ উপজেলা।চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ির জন সংখ্যা সব থেকে বেশী।প্রতিদিন যে হারে ফটিকছড়িতে করোনা রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে,হয়ত খুব শীর্ঘ্রই আমাদের প্রিয় ফটিকছড়ি রেড জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে।অল্পকিছু দিনের মধ্যে হয়ত ফটিকছড়িবাসী করোনা চিকিৎসার জন্য হন্য হয়ে এদিক,সেদিক ঘুরবে।চট্টগ্রামসহ দেশের প্রত্যেকটা জায়গায় চিকিৎসা ব্যবস্থা চরম অব্যবস্থাপনা,চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম সংকট,যা ইতিমধ্যে সকলে অবগত আছেন।

নিজের আপনজন,আত্বীয়-স্বজন,পাড়া-প্রতিবেশীসহ অন্তত নিজ উপজেলা মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়,তার জন্য ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ফটিকছড়ি ২০ শয্যা হাসপাতালকে বিশেষায়িত কোভিড-১৯ হাসপাতালে রুপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে।যা বাস্তবায়িত হলে আমাদের ফটিকছড়িবাসী অন্তত করোনা সংকটে বিনা চিকিৎসা মারা যাবে না,এইটা অন্তত বলা যায় আর এই হাসপাতালটি যদি চালু হয় করোনা পরিবর্তিতেও এই অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা পাবে সেটাই নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

অতি অল্প সময় এই হাসপাতালের উদ্যোগ ও তা বাস্তবায়ন করা আসলেই কষ্টসাধ্য,কিন্তু সেই কষ্টসাধ্য কাজটা বাস্তবায়ন করতে প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছেন এই হাসপাতালটির স্বপ্নদ্রষ্টা আমাদের ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সায়েদুল আরেফিন মহোদয়।ইতিমধ্যে এই হাসপাতালটি চালু করতে একটা বাজেট বা কত টাকার প্রয়োজন ও কি কি সরঞ্জাম লাগবে তার একটি লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে।যেহেতু এই হাসপাতালটি সরকারিভাবে বন্ধ,তাই তার জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্ধ আসে না,তাই এই হাসপাতাল সম্পুর্নভাবে আমাদের ফটিকছড়িবাসী সকলের আর্থিক সাহায্যে গড়ে তুলতে চাচ্ছে আমাদের ইউএনও মহোদয়।তার জন্য উনি সকল স্থরের মানুষকে যে,যার অবস্থান থেকে সাহায্য করার জন্য আহব্বান জানিয়েছেন,ইতিমধ্যে অনেকে উনার আহব্বানে সাড়া দিয়ে আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।

কিন্তু এই হাসপাতাল চালু করার বাজেট এখনো পুরিপুর্ণ হতে অনেকটা পথ বাকি।যেহেতু ফটিকছড়িতে দিন দিন আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে,সেহেতু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই হাসপাতাল করা যায় ততই মংগল,তাই ইউএনও মহোদয়ের কন্ঠের সাথে আমিও বলতে চাই,আসুন যে,যার অবস্থান থেকে এই হাসপাতাল গড়ার জন্য সাধ্যানুযায়ী এগিয়ে আসি।হয়ত আমার,আপনার,আমাদের সবার সহযোগিতায় আমাদের প্রিয় ফটিকছড়ির করোনা রোগীদের চিকিৎসা আমাদের ফটিকছড়িতে গঠিত হাসপাতালে সম্ভব হবে।

মনে রাখবেন,এই সুন্দর উদ্যোগ ইউএনও মহোদয়ের,,কিন্তু উদ্যোগটা সফল হলে এর সুফল কিন্তু আমরা ফটিকছড়িবাসীরাই ভোগ করব,ইউএনও মহোদয় হয়ত কদিন পর অন্য জায়গায় চলে যাবে,কিন্তু হাসপাতালটি যুগ যুগ ধরে আমাদের ফটিকছড়িবাসীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবে,তাই আসুন সবাই যে,যার স্থান থেকে এগিয়ে আসি,,ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা যদি ঈদের জমানো ও টিফিনের টাকা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য দিতে পারে,তাহলে আমরা কেন দিতে পারব না ,,?

ইনশাআল্লাহ,,আমরাও পারব,,আমাদেরও সেই মানসিকতা ও উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আমি আমার সাধ্যানুযায়ী সাহায্যে এগিয়ে আসব,প্লিজ আপনিও এগিয়ে আসুন & অন্যকে এগিয়ে আসার জন্য উৎসাহিত করুন আর তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়।

আহব্বানে

আতিক নজরুল

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি

নাগরিক কাগজ।