লক্ষ্মীপুরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর অত্যাচারে আনোয়ার হোসেন অতিষ্ঠ

মুজাহিদুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর।।

লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা ১৩ নং দিঘলী ছমদ উল্যাহ পাটোয়ারি বাড়ি মাহমুদা আক্তার লিপির অত্যাচারে অতিষ্ঠ লক্ষীপুর জেলা সদর ১৫ নং লাহারকান্দি( সরিষাবাড়ী) মৃতঃ নূরুল ইসলামের ছেলে আনোয়ার হোসেন।

লক্ষীপুর জেলা সদর পৌরসভার ১৫ নং লাহারকান্দি (সরিষাবাড়ীর) মৃতঃ নুরুল ইসলাম এর ছেলে আনোয়ার হোসেন সাথে গত ২৭ -১২-২০০৮ ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানা ১৩ নং দিঘলী ছমদ উল্লাহ পাটোয়ারি বাড়ি মাহমুদা আক্তার লিপির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । বৈবাহিক জীবনে তাদের এক পুত্র সন্তান ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

কিছুদিন পরে আনোয়ার হোসেন সৌদি আরবে পাড়ি জমান, এরে পাকে মাহমুদা আক্তার লিপি আনোয়ার হোসেনের মা মাজেদা খাতুন এর সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। আনোয়ার হোসেন যখন জানতে পারে তার মায়ের সাথে খারাপ আচরন করে তখন তিনি তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় বোঝাতে চেষ্টা করেন। কিছুদিন পর আনোয়ার হোসেন তার মায়ের কাছ থেকে জানতে পারেন তার স্ত্রী পরকীয়ার সাথে ও সম্পর্কিত আছে।

আনোয়ার হোসেন যখন শুনলেন তার স্ত্রীর পরকীয়ার সাথে জড়িত তখনি তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার। তাই তিনি গত ১৭-০৪-১৬ ইং তারিখে ৪৫২ নং এফিডেভিট মূলে মাহমুদা আক্তার লিপিকে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে ছিন্ন করেন।

আনোয়ার হোসেন যখন তার স্ত্রী মাহমুদা কে তালাক দিয়েছিলেন তখনই মাহমুদা আক্তার লিপি লক্ষ্মীপুর দায়রা জজ আদালতে একটি যৌতুকের মামলা করেন। আনোয়ার হোসেনের মা যখন জানতে পারে মাহমুদা আক্তার লিপি তার ছেলে আনোয়ার হোসেনের নামে যৌতুকের মামলা দিয়েছে তখন তিনি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানান। পরিশেষে মাহমুদা আক্তার লিপি কাবিনের এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন।

আনোয়ার হোসেন গত ২০-০২-২০১৭ ইং একটি স্থানীয় সালিশি বৈঠকে আয়োজন করেন। উক্ত বৈঠকে সকলের সিদ্ধান্তে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার সাথে ৩ মাস ১০ দিনের বাবদ আরও ৩০,০০০ টাকা মাহমুদা আক্তার লিপিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

উক্ত বৈঠকে আনোয়ার হোসেনের মা মাজেদা খাতুন সালিশদার হাফিজুর রহমান জহির এর কাছে নগদ ১, ৮০,০০০ টাকা জমা দেন। ঐ বৈঠকে সকলের সিদ্ধান্ত মতে মাহমুদা আক্তার লিপিকে আনোয়ার হোসেনের নামে যৌতুকের মামলাটা উঠিয়ে এক লক্ষ আশি হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বলা হয়।

মাহমুদা আক্তার লিপি আনোয়ার হোসেনের নামে যৌতুকের মামলা উঠে উঠে বলে আজও উঠানো হলো না। অন্যদিকে মাহমুদা আক্তার লিপির এক লক্ষ আশি হাজার টাকা সালিশদার হাফিজুর রহমান জহির এর কাছে প্রায় তিন বছর পড়ে আছে।

সালিশদার হাফিজুর রহমান কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, মাহমুদা আক্তার লিপি এক লক্ষ আশি হাজার টাকার সাথে তার এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্য জায়গা জমিন ছেয়েছে, ছেলেমেয়েদের জন্য জায়গা জমি না পাওয়ায় সেওই এক লক্ষ আশি হাজার টাকা আজ পর্যন্ত নেয়নি।

গত ১৯-১২-২০১৯ ইং আনোয়ার হোসেন সংসারের চিন্তায়, চেতনায় সৌদি আরব থেকে ব্রেন স্ট্রোক করে এক হাত ও দুই পা অবশ হয়ে হুইলচেয়ারে করে দেশে ফেরেন। আনোয়ার হোসেন বাড়ি ফেরার পর, মাহমুদা আক্তার লিপি তার বাড়িতে এসে হাজির হয়। আনোয়ার হোসেনকে পেয়ে মাহমুদা আক্তার লিপি জায়গা জমিন ও নগদ অর্থ চেয়েছে। আনোয়ার হোসেন তার এক ছেলে এক মেয়েকে রেখে যাওয়ার জন্য বলে। মাহমুদা আক্তার লিপি তার ছেলে মেয়েকে তার সাথে নিয়ে যাবে এবং তাকে জায়গা জমিন বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আনোয়ার কে বলেন। আনোয়ার হোসেন জায়গা জমিন দিবেনা বলে তাকে নাকচ করে দেয়। এরই সুবাদে মাহমুদা আক্তার লিপি আনোয়ার হোসেন ও তার মাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং তাকে যৌতুকের মামলায় ভয়-ভীতি দেখান।

মাহমুদা আক্তার লিপি, আনোয়ার হোসেনের ব্রেইন স্ট্রোকের পরীক্ষার কাগজপত্র ও ঔষধের সিলিপ এবং দেশি-বিদেশি ওষুধগুলো নিয়ে যায়। পুনরায় আনোয়ার হোসেন ও তার মাকে প্রাণনাশেরও হুমকি দিয়ে যায়। বর্তমানে মাহমুদা আক্তার লিপির ভয়ে আনোয়ার হোসেন তার আত্মীয়দের বাড়িতে থাকেন।

মাহমুদা আক্তার লিপির জন্য আনোয়ার হোসেন মা মাজেদা খাতুন লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় তার চিকিৎসার কাগজপত্র ও ঔষধের কাগজপত্র এবং ঔষধ ফেরত দেওয়ার জন্য গত ২৯-০৫-২০২০ ইং একটি অভিযোগ করেন। বর্তমানে আনোয়ার হোসেন ঔষধ না খেতে পেরে তার জীবন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমানে সে মানবেতর জীবনযাপন করছে।