কেউ স্ট্রোক করেছে কি না তা সহজে নির্নয় করবেন যেভাবে

সাজ্জাদ চৌধুরী,চট্টগ্রাম।।

১. রোগীকে হাসতে বলুন।

২.রোগীকে আপনার সাথে সাথে একটি বাক্য বলতে বলুন।

উদাহরণঃ আজকের দিনটা অনেক সুন্দর।

৩.রোগীকে একসাথে দুই হাত উপরে তুলতে বলুন।

৪.রোগীকে বলুন তার জিহবা বের করতে। যদি তা ভাঁজ হয়ে থাকে অথবা যদি তা বেঁকে যে কোনো একদিকে চলে যায়। সেটাও স্ট্রোকের লক্ষণ।

এর কোনো একটিতে যদি রোগীর সমস্যা বা কষ্ট হয়, তৎক্ষণাৎ দেরি না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

সমাধানঃ

স্ট্রোক নিঃসন্দেহে একটি মরণ রোগ। যখন কে‌উ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, তখন তাঁর মস্তিস্কের ক্যাপিলারিগুলি স্ফীত হয়ে ওঠে। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে নাড়াচাড়া করা বিপজ্জনক বলে প্রতিপন্ন হতে পারে। কারণ সে ক্ষেত্রে ক্যাপিলারিগুলি ফেটে গিয়ে মস্তিস্কের ভিতরে রক্তপাত শুরু হতে পারে। বরং সেই মুহূর্তে হাতের কাছে থাকা একটি সুঁই বাঁচাতে পারে রোগীর প্রাণ।

ঠিক কী করতে হবে এই সু্ঁই দিয়ে?

আসুন, জেনে নিই—

প্রথমে সুঁইয়ের ডগাটিকে মোমবাতি, উনুন বা লাইটারের আগুনে ধরে ভাল করে গরম করে নিন।

এর পর যিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর দুই হাতের দশ আঙুলের ডগায় সুঁইটিকে ফুটিয়ে দিন।

কোনও নির্দিষ্ট পয়েন্টে সুঁই ফোটানোর আবশ্যকতা নেই। মোটামুটি আঙুলের ডগার মাঝামাঝি এমন ভাবে সুঁই ফোটাতে হবে, যাতে বিন্দু বিন্দু রক্ত আঙুলের ডগা থেকে বার হতে থাকে।

যদি স্বাভাবিক ভাবে রক্তপাত না হয়, তা হলে রোগীর আঙুলের ডগা চেপে ধরে রক্ত বার করে দিন।

এই ভাবে মিনিট কয়েক রক্তপাত হওয়ার পরেই দেখবেন রোগী অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।

যদি স্ট্রোকের প্রভাবে রোগীর মুখ বেঁকে যায়, তা হলে তাঁর দুই কানে জোরে জোরে হাত দিয়ে ম্যাসাজ করতে থাকুন। যতক্ষণ না দু’টি কান লাল হয়ে উঠছে, ততক্ষণ এই কাজ করুন।

কান দু’টি লাল হয়ে যাওয়ার পরে দুই কানের লতিতে সুঁই ফুটিয়ে দিন। কিছুক্ষণ রক্তপাতের পরেই দেখবেন রোগীর মুখ স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে।

রোগী একটু স্বাভাবিক হলেই তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। স্ট্রোক হবার তিন ঘন্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া যায়, তবে তাকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ অবস্থায় ফেরত পাওয়া সম্ভব।

সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী

( গ্ৰাম ডাক্তার )। ভি,ডি,আর,এম,পি