সান্তাহারে রাইস মিল থেকে কাবিখার গম উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি।।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় কাবিখা প্রকল্পের ১৪৩ মেট্রিকটন গম একটি অটো রাইস মিল থেকে উদ্ধার করা সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হবার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সোমবার পর্যন্ত কোন তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ মিলে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে ১৪৩ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের ১২ ইউপি সদস্যকে সভাপতি করে ৩৬ টি প্রকল্প গ্রহন করে তাদের অনুকূলে গম বরাদ্দ করা হয়।

নীতিমালা মোতাবেক কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে একাধিক কিস্তিতে বিলি আদেশের মাধ্যমে খাদ্য গুদাম থেকে প্রকল্প সভাপতিকে গম প্রদান করতে হবে। কিন্তু সে নীতিমালা অনুসরণ করা হয় নি।

গত অর্থ বছরের ২৯ ৩০ জুন উপজেলা খাদ্য বিভাগ সান্তাহার খাদ্য শস্য সাইলোর অধীনে এক দফায় ১৪৩.০৩৯ মেট্রিক টন গমের বিলি আদেশ প্রদান করেন ওই ৩৬ প্রকল্পের ১২ সভাপতির নামে। কিন্তু ওই বিলি আদেশের প্রেক্ষিতে প্রকল্প সভাপতিদের পরিবর্তে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নতুন অর্থ বছরের জুলাই শনিবার রাতে সাইলো থেকে গম সরবরাহ নেয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,কে,এম,আব্দুল্লাহ বিন রশিদ।

খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ নেয়া গমগুলো শহরের খাড়ির পুল এলাকার বৈশাখী অটোমেটিক চালকলে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়। সরকারি গম সরকারি গুদামের পরিবর্তে চালকলে নিয়ে রাখার বিষয়টি রাত ৯টার দিকে জানাজানি হয়।

খবর পেয়ে ওই দিন রাত ১১টার দিকে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনিসুর রহমান টিএসআই ওয়াদুদ হোসেন ওই চালকলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। পরে ইউএনও নির্দেশে পুলিশ রাত ১২টার দিকে ওই চালকলের ভিতর থেকে ট্রাক বোঝাই গম উদ্ধার করে উপজেলার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন।

এসময় সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণ করেছেন বলে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট দাবী করেছেন পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান।

এদিকে চালকল থেকে সরকারী গম বোঝাই ট্রাক উদ্ধার করা হলেও ওই চালকল কর্তৃপক্ষের কাউকে এবং সেখানে গমবাহী ট্রাক লুকিয়ে রাখা ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক না করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপর দিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমন আলোচিত ঘটনার কোন প্রকার তদন্ত না করেই তাঁর হেফাজতে নেয়া ট্রাক গমের মধ্যে তরিঘরি করে রবিবার সকালে সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে ট্রাক গম দিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া সোমবার বেলা ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গণমাধ্যম কর্মীরা আলোচিত ৩৬ কাবিখা প্রকল্পের তালিকা চাইলে, তিনি সরেজমিনে নিতে বলেন। কিন্তু বিকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও তিনি তালিকা দেননি