লালমনিরহাটে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মাদক ব্যাবসায়ী মুরগী লিটন পুলিশের হাতে আটক

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।

লালমনিরহাট পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী বিভিন্ন অপকর্মের হোতা লিটন মুন্সি অবশেষে পুলিশের হাতে আটক।লালমনিরহাট থানার ওসির নাম ভাঙিয়ে এক অসহায় নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলার এজাহার পরিবর্তন করায়,ঐ নারী লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করলে, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নির্দেশে লিটন মুন্সিকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

সোমবার (৫জুলাই) সকাল ১১টায় লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)র একটি টিম লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার নির্দেশে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট সীমান্ত থেকে নজির হোসেন ওরফে মুরগী লিটন কে গ্রেফতার করে পুলিশ।মুরগী লিটন ওরফে লিটন মুন্সি কে গ্রেফতার করায় মোগলহাট ইউনিয়নের সাধারন মানুষ মিষ্টি বিতরন করে।

ঘটনার সুত্রে জানা যায় লালমনিরহাট সদর উপজেলা মোগলহাট ইউনিয়নের বাক্চিটারী এলাকার এক নারী তার স্বামী কে তালাক দেয়।এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর স্বজনেরা ঐ নারী কে মেরে আহত করে।লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ঐ নারী চিকিৎসা গ্রহণ করেন।এই ঘটনায় স্বামী সহ ০৫জন কে আসামী করে ঐ নারী একটি অভিযোগ দেবার জন্য সদর থানায় যান,সেখানে থানার সোর্স হিসেবে পরিচিত মোগলহাট এলাকার নজির হোসেন ওরফে মুরগী লিটন কৌশলে ঐ নারীর কাছ থেকে এজাহারের কপি তার হাতে নেন। মামলা এন্ট্রি করার জন্য ওসি কে দিতে হবে বলে ঐ নারীর কাছ থেকে ২৫০০টাকা ঘুষ দাবী করেন। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী নারী মুরগী লিটন কে টাকা দিতে বাধ্য হন।মুরগী লিটন আসামী পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মামলার এজাহারের কপি নকল করে ঐ নারীর স্বাক্ষর জাল করে মামলাটি জমা দেন।মামলার তদন্তকারী অফিসার মামলা তদন্ত করতে গেলে ঐ নারী টের পান মূল আসামী বাদ দিয়ে তার সই নকল করে এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।নির্যাতিতা ঐ নারী বিষয়টি অভিযোগ আকারে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা কে অবহিত করলে,পুলিশ সুপারের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়, সোমবার লিটন মুন্সি ওরফে মুরগী লিটন কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে পুলিশ।

লিটন মুন্সি ওরফে মুরগী লিটন গ্রেফতার হবার সংবাদে মোগলহাট ইউনিয়নে সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে,ভুক্তভোগী মানুষ নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরন করেছে।মোগল হাট সীমান্তের একাধিক মানুষ পরিচয় গোপন রেখে এই প্রতিবেদক কে জানান লিটন মুন্সি একজন ভন্ড লেবাসধারী,সে প্রতিদিন দুটি করে ফেনসিডিল সেবন করার পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক্য স্থাপন করত,অথচ তার সুরত ছিল রহস্যময়,পরনে লম্বা ঝুব্বা পাঞ্জাবী,মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি, দামী টাইলস করা বিল্ডিং বাড়ী,দামী মোবাইল, মটর সাইকেলে চলাচল করতো, সঙ্গে তার সবসময় দুজন চেলা থাকতো, এসবের খরচ কোথা থেকে আসতো।তারা জানান বর্তমান সময়ে মোগলহাট সীমান্ত দিয়ে যত ধরনের মাদকের ব্যাবসা সংঘটিত হত তার মূল নায়ক ছিলেন এই লিটন মুন্সি।সে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে ছোট খাটো মাদক ব্যাবসায়ীকে ধরিয়ে দিয়ে পুলিশের চোখে হিরো সেজেছে, অন্যদিকে সীমান্ত থেকে বড় বড় মাদকের চালান পার করে ঢাকায় পাঠাতো এবং মোগলহাটে একাধিক স্পটে তার মাদক বিক্রি হতো।মাদকের ব্যাবসা কে মনোপলি করে তার মূল্যে সকল ব্যাবসায়ীকে কিনতে বাধ্য করা হতো।তার কাছ থেকে মাদক কিনে দিনে দুপুরে মোগলহাট মাঠের পার এলাকায় মাদক সম্রাজ্ঞী মমি ফেনসিডিল ও ইয়াবার ব্যাবসা করলেও পুলিশ অদৃশ্য ইশারায় তাকে গ্রেফতার করছে না।

লিটন মুন্সির সরবরাহকৃত মাদকের মূল্য বেশী দাম হলেও গ্রেফতার হবার ভয় নেই বিধায় উপায় না পেয়ে মুন্সির মাদক বিক্রি করতে বাধ্য হতো।লিটন মুন্সি কোথায় কোথায় মাদক দিত তার অডিও ক্লিপ সংগৃহীত রয়েছে প্রমান স্বরূপ একাধিক ব্যাক্তির কাছে।এদিকে লিটন মুন্সির মাদকের টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করায় মাদক দিয়ে মোগলহাট মাঠের পার এলাকার মাদক সম্রাজ্ঞী মমি বেগম কে ধরিয়ে দেয় লিটন মুন্সি।তারপর জেলখানায় দেখা করে মমির সাথে চুক্তি করে তাকে জামিনে বের করে নিয়ে আসে লিটন মুন্সি।বিনিময়ে মমির ২৫শতক জমি লিটন মুন্সি লিখে নেন,পরবর্তীতে সেই জমি বিক্রি করে সকল টাকা আত্মসাৎ করে লিটন মুন্সি।এই ঘটনার কথা স্বীকার করেন মমির পরিবার।এমন ঘটনায় ইতিপূর্বে চর ফলিমারি এলাকার গরুর ব্যাবসায়ী আলতাফ হোসেনের ছেলে আনোয়ার ভিটে মাটি ছাড়া হয়েছে।এমন ডজন খানেক মানুষ লিটন মুন্সির কারনে সর্বশান্তঃ হবার অভিযোগ জানিয়েছেন এই প্রতিবেদকের কাছে।

লালমনিরহাট থেকে লিটন মুন্সির কারনে ভিটে মাটি ছাড়া হয়েছে তাদের মধ্যে একজন মোগলহাট কর্নপুর এলাকার মৃত হজরত আলীর ছেলে ভুট্টো এই প্রতিবেদক কে জানান,লিটন মুন্সি মাদক মামলা দিয়ে তাকে জেলে পাঠায়,তারপর ঢাকা হাইকোর্ট থেকে জামিন করে নিয়ে এসে জামিনের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবী করে,সিংহ ভাগ টাকা দেওয়া হলে আরো টাকার জন্য চাপ দিয়ে ফেনসিডিল বিক্রি করতে দেয়।তার দেওয়া ফেনসিডিল বিক্রি করে লভ্যাংশের সকল টাকা সে নিয়ে যেত।এতে হজরত আলীর ছেলে ভুট্টূ মাদক বিক্রি করতে অস্বীকার করলে তাকে মাদকের মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়।পুলিশের হাতে পূনরায় গ্রেফতারের ভয়ে সে এলাকা ছাড়া হয়ে আছে আজ পাঁচ বছর ধরে।তার গ্রেফতারের খবর শুনে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ভন্ড লেবাসধারী লিটন মুন্সি পুলিশের সোর্সের আড়ালে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন মোগলহাট এলাকায়।পুলিশ তার কথা শুনত তাই সাধারন মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়নি এতদিন।লিটন মুন্সির মত মাদক চোরাকারবারি ভয়ানক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে এলাকা বাসী।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান লিটন মুন্সিকে তারা চেনেন না,মাদকের সাথে যেই জড়িত থাকুক পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবেই।তার বিরুদ্ধে এতদিন কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি,আজকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।