লালমনিরহাটে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় তিস্তা ও ধরলা পারের মানুষ,প্রশাসনের রেড এলার্ট জারি

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ও ধরলা পারের ১১০টি গ্রামের পানি বন্দি মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।ধেয়ে আসছে উজানের পাহাড়ি ঢল, বিপদ সীমার ৫০ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিস্তা পারে সতর্কতা মূলক রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।
সোমবার( ১৩ই জুলাই) রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে তিস্তা ও ধরলা নদীর দুপারের মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রাত জেগে কাটাচ্ছে।উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েই চলছে।একের পর এক গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে পানির নীচে।
রবিবার(১২জুলাই) দুপুর নাগাদ তিস্তার পানি কিছুটা কমে আসে,কিন্তূ বিকেল নাগাদ তিস্তা এবং ধরলা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে।রবিবার রাত বারোটার দিকে তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৫০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিস্তার পানি প্রবাহ অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের কতৃপক্ষ সতর্কতা মূলক রেড এলার্ট জারি করে।নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা ব্যারেজের সকল জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।এতেও পানির চাপ সামলাতে পারছে না তিস্তা ব্যারেজ কতৃপক্ষ। তিস্তা সেচ প্রকল্পের প্রৌকশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তিস্তা ব্যারেজের বাইপাস বাঁধ কেটে দিতে হতে পারে,তাই তিস্তা ব্যারেজের উজান এবং ভাটির দুপাশের মানুষ কে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে মাইকিং করে কতৃপক্ষ।
তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১১০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, বাউরা,হাতিবান্ধা উপজেলার সিন্ধূর্না, পাটিকাপাড়া, গড্ডিমারি,সিংঙিমারি,ভোটমারি,কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনা,আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা,সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ,রাজপুর, গোকুন্ডা,বড়বাড়ি,মোগলহাট,কুলাঘাট ইউনিয়নের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে হাতিবান্ধা উপজেলার সিন্ধূর্না ও বড়খাতা বাইপাস সড়কে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে,সড়কটি ভেঙে গেলে হাতিবান্ধা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে,তাই এলাকা বাসী ও উপজেলা প্রশাসন বালির বস্তা দিয়ে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ধরলা নদীর পানি অব্যাহত ভাবে বাড়তে থাকে।রবিবার সন্ধ্যায় ধরলা নদীর পানি বিপদ সীমার ২০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর ফলিমারি, খারুয়া, বোয়ালমারি,কুলাঘাট ইউনিয়নের চর শিবেরকুটি, চর খারুয়া,খাটামারি, বড় বাড়ি ইউনিয়নের চর বাসুরিয়া,কলাখাওয়ার বসত বাড়ি ,ফসলি জমি তলিয়ে যায়।ফলে শুকনো খাবার পানীয় জল,গো-খাদ্য সংকটে পড়ে এসব এলাকার মানুষ।পানি বন্দি মানুষের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ত্রান সামগ্রী পৌঁছানো দরকার।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন জানান খুনিয়াগাছ, রাজপুর,গোকুন্ডা,মোগলহাট,বড়বাড়ি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসক ৪৫মেট্রিক টন চাল ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন,খুব দ্রুত পানি বন্দি মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরনের জন্য ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
