লক্ষ্মীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের রিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (২৪৬) প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি, ২০২০ এসএমসি সদস্য প্রার্থী হিসেবে ফরম ক্রয় করেন দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সাইফুল করিম (মহিম)।

সাইফুল করিম বলেন গত (২৬ শে জুন) জানতে পারলাম দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির তালিকা ও জমা দেওয়া হয়ে গেছে। প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কে  জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কমিটি এখনো করা হয় নাই, করা হলে আপনাকে জানাবো।

অন্যদিকে সাইফুল কবির বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বলেন, আমরা শুনেছি কমিটি হয়ে গেছে তবে কমিটিতে কে কে আছে আমরা কেউ জানিনা।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের দুর্নীতি এখানেই শেষ নয়, তিনি গত ২৪-০৫-২০১৫ ইং তারিখে দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থানরত মসজিদের কমিটির কাছ থেকে অত্র বিদ্যালয়ের টয়লেটের জন্য (১২৫০০) টাকার বিনিময় মসজিদকে আজীবন বিদ্যালয়ের টয়লেট ব্যবহার করার জন্য অনুমতি প্রদান করেন। অতঃপর মসজিদ কমিটির সাথে লিখিতভাবে চুক্তিনামায় স্বাক্ষর করেন।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আশেপাশের বেশ কয়েকজন অভিভাবক গণমাধ্যমকর্মীদের অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দরেন।

জানা যায়, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। এরই মধ্যে তিনি অত্র বিদ্যালয়ের অনেক অভিভাবককে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বীমা সদস্য তৈরি করেন।

বীমা সদস্যদের মধ্যে রহিমা আক্তার( চন্দ্রাভানু) নামের এক ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম অভিভাবকদের ভুলিয়ে ভালিয়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সদস্য তৈরি করেন। এরই মধ্যে অনেকের সাথে প্রতারণা করেছেন তিনি।

রহিমা আক্তার( চন্দ্রাভানু) বলেন, আমার কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক( ১০) হাজার টাকা করে তিনবার নিয়েছে (৩০) হাজার টাকা । ওই টাকা তিনি অফিসে জমা না দিয়ে নিজে খরচ করে ফেলেছেন। পরিশেষে আমি পপুলার বীমা অফিসে গিয়ে জানতে পারলাম আমার টাকা জমা হয় নাই। অতঃপর আমি প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞেস করিলে প্রধান শিক্ষক আমাকে (১০ হাজার) টাকা আমার হাতে দিয়ে বলেছে বাকি টাকা গুলো আমাকে দিয়ে দেবে। কিন্তু আজও আমার (২০ হাজার) টাকা পড়ে আছে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে।

রহিমা আক্তার চন্দ্রা আরও বলেন, আমার জানামতে মুরাদ ও পারুল নামের দুই ব্যক্তির সাথেও তিনি প্রতারণা করেছেন পপুলার বীমা নিয়ে।

আরেক ভুক্তভোগী মুরাদ বলেন, জানামতে আরো অনেকের অভিভাবকদের তিনি পপুলার লাইফ ইন্সুরেন্স এর বীমা নিয়ে প্রতারণা করেছেন।

শফিকুল ইসলাম গত ( ১০ জুলাই) সকাল ৯ ঘটিকার সময় অত্র বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বসার বেঞ্চ সরঞ্জাম বিক্রি করে ফেলেন। বিদ্যালয়ের আশেপাশের লোক ও ইটেরপুল খাজার দোকানের পাশে থাকা বিদ্যালয়ের অভিভাবক গণমাধ্যমকর্মীদের মুঠোফোনে জানালে গণমাধ্যমকর্মীরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন বিদ্যালয়ের বেঞ্চ বিক্রি করি নাই। আপনারা যাহা দেখেছেন সেটাও হতে পারে অন্য স্কুলের বেঞ্চ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা যে ব্যক্তির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বেঞ্চ বিক্রি করেছে সেই মাসুদ কে জিজ্ঞাসা করলে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অত্র বিদ্যালয়ের নানা দুর্নীতির কথা শোনা যায়। সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলেছেন। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বাজেটের কথা কমিটির সদস্যদের কাছে না বলেই নিজে একাই ভোগ করতেন। সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ীক কাজে ঢাকা থাকায় সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যালয় উন্নয়নের খাতের অনেক টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জানা যায় প্রধান শিক্ষক স্কুলের কার্যক্রম মনগড়া মত করেন। কাউকে তিনি তোয়াক্কা করেন না। বিদ্যালয় সম্পর্কে ভালো মন্দ কেউ জিজ্ঞাসা করলেও তাদেরকে তিনি মূল্যায়ন করতেন না।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, সকলের উপস্থিতিতে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি করা হয়েছে। বর্তমান কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন নুরুল ইসলাম মাস্টারের কথা বলেছেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীরা নুরুল ইসলাম মাস্টারের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমাকে সভাপতি করা হয়েছে তবে আমি সভাপতি হয়েছে কিনা তার কোন কাগজপত্র পাইনি। এছাড়াও তিনি মসজিদের টাকা নেওয়ার ব্যাপারে স্বীকার করেন।

প্রধান শিক্ষক বলেন, টাকা আমি নিয়েছি সত্য। তবে যে টাকা নিয়েছি সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের টয়লেটের সামনে গর্ত পূরণ করার জন্য।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা অনেক আগের ঘটনা।এটা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা লেখালেখি না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অত্র বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের উপযুক্ত বিচার চান প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে।