রক্তশূন্যতার কারণ ও লক্ষণ

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।

রক্তের একটি বিশেষ উপাদান হলো লোহিত রক্তকণিকা বা আরবিসি। লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি বিশেষ ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের সব কোষকে উজ্জীবিত রাখে এবং প্রতিটি কোষের বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। এই হিমোগ্লোবিন বয়স ও লিঙ্গভেদে যখন স্বাভাবিক মাত্রার নিচে নেমে যায় তখন তাকে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা বলে। এনিমিয়ায় হিমোগ্লোবিন নিজেই কমে যেতে পারে অথবা পুরো লোহিত কণিকাই সংখ্যায় কমে যেতে পারে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ১৩.৫ থেকে ১৭.৫ গ্রাম/১০০ মি.লি.। নারীদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা হলো ১১.৫ থেকে ১৫.৫ গ্রাম/১০০ মিলি।

রক্তশূন্যতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে, যেমন: ক্রনিক রেনাল ফেইলিওর অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদী বৃক্কীয় কার্যহীনতা অথবা কখনো নিজেই একটি রোগ হতে পারে, যেমন:  অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া অর্থাৎ সমস্ত রক্তকণিকা তৈরি হবার অভাব  বা যার কারণে অন্য রোগ হতে পারে যেমন হার্ট ফেইলিওর।

রক্তশূন্যতার কারণ

রক্তশূন্যতা আসলে রোগ নয়,  রোগের উপসর্গ। বিভিন্ন কারণে এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা হতে পারে। কারণগুলোকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়।

রক্তের লোহিত কণিকার উৎপাদনজনিত সমস্যার কারণে :

– আয়রনের ঘাটতিজনিত এনিমিয়া।

– ভিটামিন-বি, ফলিক এসিডের ঘাটতিজনিত এনিমিয়া।

– এপ্লাস্টিক এনিমিয়া (অস্থিমজ্জার উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হলে হয়)।

– বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসুখের (যেমন—কিডনি বিকল, লিভার বিকল, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা ইত্যাদি) কারণে এনিমিয়া।

– লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সারজনিত কারণে

রক্তের লোহিত কণিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়ার কারণে :

– জন্মগত কারণ (যেমন—থ্যালাসেমিয়া)।

– বিশেষ কিছু ইনফেকশনের কারণে (যেমন—ম্যালেরিয়া)।

– শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে

রক্তক্ষরণজনিত কারণে :

– কৃমি, পেপটিক আলসার, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ, পাইলস, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব

– দুর্ঘটনাজনিত হঠাৎ রক্তক্ষরণ।

রক্তশূন্যতার লক্ষণসমূহ

– দুর্বল লাগা, অবসাদগ্রস্ততা, ক্লান্তি

– বুক ধড়ফড় করা, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা, মাথা ধরা

– ক্ষুধামন্দ

– চোখ, হাত-পা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া

– হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ লাগা

– মুখে ঘা, খাবার গিলতে অসুবিধা

রক্তশূন্যতার ঝুঁকি কাদের বেশি

শরীরে প্রয়োজনীয় আয়রন এবং ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে অ্যানিমিয়া হয়। যাদের অ্যানিমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে তারা হলেন:

– যেসব নারীদের ঋতুস্রাবের সময় রক্তপাত অনেক বেশি হয়

– গর্ভবতী নারীরা

– দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছেন যারা

– যেকোন ধরণের ক্যানসারে, বিশেষ করে রক্তের কোন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা

– পেটে কৃমি হলে

– যারা অপুষ্টির শিকার

– নিরামিষাশী

– এইচআইভি কিংবা হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত রোগীরা

– বংশে কারো অ্যানিমিয়া থাকলেও হতে পারে।