আসুন ওভারিয়ান সিস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।

ওভারিয়ান সিস্ট হল ডিম্বাশয় এর মধ্যে একটি তরল ভরা থলি। হরমোনের সমস্যা, অনিয়মিত পিরিয়ড, অল্পবয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া ইত্যাদি নানা কারণে সিস্টের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। বর্তমানে অনেক নারী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাধারণত ৫০ বছরের মধ্যে এই রোগটি হতে পারে। অধিকাংশ সিস্টই ক্ষতিকর নয়। যদি না সিস্টটি ফেটে যায় অথবা ডিম্বাশয় মুচড়ে যায়,এবং এর কারনে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।

ধরন:

ফলিকিউলার সিস্ট, করপাস লুটেয়াম সিস্ট, এন্ডোমেট্রিয়োসিসের জন্য সিস্ট, ডারময়েড সিস্ট, সিস্টাডেনোমা, ওভারিয়ান ক্যান্সার।

অধিকাংশ ওভারিয়ান সিস্ট যেমন ফলিকিউলার সিস্ট সমূহ অথবা করপাস লুটেয়াম সিস্ট সমূহ ডিম্বপাত এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়।অন্যান্য ধরনের মধ্যে আছে এন্ডোমেট্রিওসিস এর জন্য সিস্ট, ডারময়েড সিস্ট এবং সিস্টাডেনোমা সমূহ।পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম অসুখে দুটি ডিম্বাশয়ে অনেক ছোট ছোট সিস্ট তৈরী হয়।শ্রোণীর প্রদাহ রোগ হলেও সিস্ট তৈরী হয়। কদাচিৎ, সিস্ট ডিম্বাশয় ক্যান্সার এ পরিবর্তিত হয়।

উপসর্গ:

পেটে ব্যথা, পেটে বা শ্রোণীচক্রে হাল্কা ব্যথা, বিশেষ করে যৌনসম্পর্কের সময়। জরায়ু থেকে রক্তপাত, ঋতু শুরুর প্রথমে বা চলার সময়ে বা শেষে ব্যথা; অনিয়মিত ঋতু, অথবা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা রক্তের ছিটা লাগা।পেট ভরে থাকা, ভারি লাগা, চাপ লাগা, পেট ফোলা, বা পেট ফাঁপা।যখন ডিম্বাশয় তে একটি সিস্ট ফেটে যায়, তলপেটের একপাশে হঠাৎ ও তীব্র ব্যথা হতে পারে। মূত্রত্যাগ এর ঘটনের সংখ্যা এবং সহজতায় পরিবর্তন (যেমন মূত্রস্থলী) সম্পূর্ণরূপে খালি করায় অক্ষমতা, অথবা সংলগ্ন শ্রোণীচক্র এ চাপের কারণে বাওয়েল মুভমেন্ট এ অসুবিধা

রোগ নির্নয়:

ওভারিয়ান সিস্ট গুলি সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, বা এমআরআই দ্বারা নির্ণয় করা হয়। পুনরায় হবার সম্ভাবনা রজোনিবৃত্তির আগে ৮% মহিলার বড় সিস্ট দেখা যায় যেগুলি অসুবিধা ঘটাতে পারে।রজোনিবৃত্তির পর প্রায় ১৬% মহিলার ওভারিয়ান সিস্ট থাকে এবং থাকলে সেগুলি থেকে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ওভারিয়ান সিস্ট থেকে বাচতে  কয়েকটি পদক্ষেপ খুব কাজের হতে পারে।

ইস্ট্রজেন নিয়ন্ত্রণ : ওভারিতে সিস্ট হওয়ার অন্যতম কারণ ইস্ট্রজেন  ইস্ট্রজেনের পরিমাণ বেড়ে গেলে ওভিউলেশন অনিয়মিত হয়। যার ফলে ওভারিতে সিস্ট তৈরি হয়। তাই সিস্ট রুখতে শরীরে ইস্ট্রজেন ব্যালান্সের দিকে খেয়াল রাখুন। সয়া প্রোটিন, প্রসেসড মিট শরীরে ইস্ট্রজেনের পরিমাণ বাড়ায়।

ডায়েট : চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ওভারিয়ান সিস্টের অন্যতম কারণ। ডায়েটে সবুজ শাক-সবজি, ফল বেশি থাকলে সিস্টের মোকাবিলা করা সহজ হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ : অতিরিক্ত ওজন  হওয়ার কারণেও ওভারিয়ান সিস্টে আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। মেদ কমিয়ে আনতে পারলে ওভারিয়ান সিস্টের সমস্যা অনেকটাই কাটানো যেতে পারে।