রাতে ঘুম না হওয়ার কারন,লক্ষণ ও প্রতিকার

শেখ আল মামুন,সাতক্ষীরা।।
রাতে ঘুম না হওয়া বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে বা ঘুম না আসাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা বলা হয়ে থাকে।
অনিদ্রার কারণসমূহঃ
মস্তিষ্কের নিউরো হরমোনাল অসামঞ্জস্য অনিদ্রার অন্যতম কারণ। সাধারণত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণেই অনিদ্রার সমস্যা হয়ে থাকে। হতাশাগ্রস্ত বা খুব কাছের মানুষের সাথে সম্পর্কের দূরত্ব শুরু হলে বা বহুদিন ধরে ক্যাফেইন, নিকোটিন জাতীয় দ্রব্য পান করলে এ সমস্যা আরো বেশী হয়। পরিবেশগত শব্দ, কায়িক পরিশ্রম না করলে বা দিনে ঘুমানোর ফলেও অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়।
অনিদ্রার লক্ষণসমূহঃ
১.সপ্তাহে তিন দিন বা তার বেশী রাতে ঘুম না আসা।
২.বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া।
৩.অল্প সময় ঘুম।
৪.ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি ভাব।
৫. সারাদিন খিটখিটে মেজাজ থাকা ইত্যাদি।
অনিদ্রার ঝুঁকিসমূহঃ
অনিদ্রার ফলে কাজ সম্পাদনের ক্ষমতা হ্রাস পায় ও মনোযোগ হ্রাস পায়। শারীরিক ক্ষতিও হতে পারে এর ফলে। শারীরিক ক্ষতির মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো ওজনআধিক্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হ্রদরোগের ঝুকি বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
আজকের এই যুগে অনিদ্রাতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেশী। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মাঝে এ সমস্যার প্রভাব অনেক বেশী প্রবল।
বেশীরভাগ মানুষের অনেকেই জানে না কীভাবে অনিদ্রার সমস্যা দূর করা যায়। ফলে অনিদ্রার সমস্যা নিয়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর জীবনযাপন করতে হয়। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য ঘুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর একটি। কিন্তু অনেকেই ঘুম হয় না বলে ঘুমের ওষুধ খান। এটি ঠিক নয়। ঘুম না হলো শরীরে নানা রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা বলেন, ঘুম না হওয়া কোন রোগ নয় তবে ঘুম না হলো নানা ধরণের রোগ আক্রমণ করতে পারে।কিছু সহজ উপায় আছে যেগুলো অবলম্বন করলে অনিদ্রার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়। নিম্নে প্রতিকারগুলো উল্লেখ করা হলোঃ
অনিদ্রার প্রতিকারের উপায়সমূহঃ
১.ঘুমানোর রুটিন তৈরি করা।
২.রিল্যাক্সেশন পদ্ধতি।
৩.শুয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকা।
৪.ঘুম না আসার কারণ খুঁজে বের করা।
৫.ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকা।
৬.ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা।
৭.ঘুমের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
