নারায়নগঞ্জ গ্যাস বিস্ফোরনে নিহত নয়নের দাফন সম্পন্ন হলো লালমনিরহাটে

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি।।
নারায়নগঞ্জের পশ্চিমতল্লায় মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরন হয়ে নিহত মুসল্লি শুকুর আলী নয়নের (২৭) জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হল আজ।নিহত নয়নের বাড়ী লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলা পলাশী ইউনিয়নের কৈটারী গ্রামে।
রবিবার (৬ই সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়নগঞ্জ থেকে নিহত নয়নের লাশ আদিতমারি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নে এসে পৌছায়।নিহত নয়ন পলাশী ইউনিয়নের দিনমজুর মেহের আলীর বড় ছেলে।নিহত নয়নের লাশ বাহী গাড়ী পলাশী ইউনিয়নে এসে পৌছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।সন্ধ্যায় নিহত নয়নের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।নিহত নয়ন দিনমজুর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি ছিলেন,সন্তান হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।
নিহত নয়ন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে পরিবারের ভাগ্য উন্নয়নে নারায়নগঞ্জের গার্মেন্টেসে কাজ করতে যান।বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে সংসারের দ্বায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ছোট দুই ভাইকে লেখাপড়া করানো এবং একমাত্র বোন কে বিয়ে দেন।শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় গার্মেনটস ছুটি হলে, মেসে ফিরে হাত মুখ ধুয়ে সে নামাজ পড়তে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় বায়তুস সালাত মসজিদে যায়।নামাজে যাবার আগে দিনমজুর বাবার সাথে শেষ কথা হয় মোবাইল ফোনে।নামাজরত অবস্থায় মসজিদের নীচে গ্যাস পাইপের লিকেজ থেকে বিস্ফোরন হলে চল্লিশজন মুসল্লি অগ্নিদগ্ধ হয়।সংকটাপন্ন অবস্থায় ২১জন মারা যায়।নিহত নয়নের লাশ শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট হাসপাতালের মর্গে পড়েছিল,তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের লোকজন কে খবর দেওয়া হয়, নয়নের ভগ্নিপতি ও মা খবর পেয়ে ঢাকা থেকে নিহত নয়নের লাশ নিয়ে আসেন আজ।
নয়নের মৃত্যুতে দিনমজুর পরিবারটিকে সান্তনা দেবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন গ্রামবাসী।প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম জানান নিহত নয়ন অত্যন্ত ভদ্র ছেলে,দিনমজুর বাবার কষ্ট দূর করতে লেখা পড়া শেষ না করেই উপার্জনে নেমে পড়েন।সম্প্রতি গার্মেন্টেসে চাকুরি করে বসত ভিটার জন্য ১৪শতক জমি ক্রয় করে নয়ন,কিছু টাকার অভাবে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।ইচ্ছে ছিল এবার বাড়ীতে এসে জমি রেজিস্ট্রি করে নিবেন।নারায়নগঞ্জ পশ্চিম তল্লায় বায়তুস সালাত মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নয়নের মৃত্যুতে পুরো পরিবারের স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে।
