লালমনিরহাটে কিশোরীকে তিনদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষন

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।

লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানার কাকিনা রেল স্টেশন থেকে এক কিশোরীকে উঠিয়ে নিয়ে, তিনদিন আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষন করেছে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে। বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে সেখান থেকে পালিয়ে কিশোরী আশ্রয় নেয় কালিগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাবে।সাংবাদিকদের সহযোগিতায় কালিগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী কিশোরী ধর্ষন মামলা দায়ের করেছে ।পুলিশ ধর্ষন কান্ডের মূল হোতা রকি(২৩)কে গ্রেফতার করেছে ।

শনিবার (১০অক্টোবর) ধর্ষিত কিশোরী ও উদ্ধারকারী সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরনে জানা যায়,রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা কিশোরী, তার বাবার সাথে মায়ের সাথে মামা বাড়ী পাটগ্রাম বেড়াতে আসে,০৬ই অক্টোবর বাড়ী ফেরার পথে কাকিনা রেল স্টেশনে গাড়ী থামলে ঐ কিশোরী ট্রেন থেকে নামে চানাচুর কিনতে,এ সময় স্থানীয় বখাটে রকি মেয়েটির সাথে ভাব জমিয়ে কথা বলতে থাকে,ট্রেন ছেড়ে দিলে মেয়েটির হাত টেনে ধরে বখাটে রকি, চলন্ত ট্রেনে উঠা যাবে না বলে তাকে অটো যোগে বাড়ী পৌছায় দেবার আশ্বাস দেয় ধর্ষক রকি।কথা মত অটো রিক্সায় উঠিয়ে অনেকটা পথ ঘুরিয়ে কাকিনা রেল স্টেশনের পাশেই একটি সেচ পাম্প ঘরে মেয়েটিকে নিয়ে রাখে,রাতে কাকিনা বানীনগর গ্রামের (১)মৃত হামিদের পুত্র আওলাদ হোসেন(৪৭),(২)মজির পুত্র নুরু(৩৭),(৩)হবির পুত্র মোর্শেদ(২৭),(৪)মতুবরের পুত্র রঞ্জু (২৮)(৫) সৈয়দের পুত্র গোলজার(২৮),(৬)ওসমান গনির পুত্র এরশাদুল(২৭),ধর্ষন কান্ডের মূল হোতা (৭)রজব আলীর পুত্র রকি(২৩)একত্রে মিলে পালাক্রমে রাতভর ধর্ষন করে।

এ সময় মেয়েটি ধর্ষকদের পা ধরে তাকে ছেড়ে দিতে বললেও ধর্ষকরা কর্ণপাত করেনি মেয়েটির কথায়।তিনদিন আটকে রেখে পালা ক্রমে ধর্ষন কান্ড এক কান দুকান হয়ে জানাজানি হলে,গ্রাম পুলিশের এক সদস্য উদ্ধার করে মেয়েটিকে আশ্রয় দেন তার বাড়ীতে।

বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বর সোলায়মান আলীর বাড়ীতে কয়েকজন টাউট, দালাল চক্র মিলে ধর্ষকদের মামলার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করে।এই ঘটনা ধামা চাপা দেবার কথা বলে স্থানীয় টাউট দালালরা নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

শুক্রবার ০৯ইঅক্টোবর সন্ধ্যায় মেয়েটিকে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে বাড়ী যাবার জন্য ছেড়ে দেওয়া হলে ঐ বখাটেরা পূনরায় কিশোরীর পিছু নেয়।এ সময় মেয়েটি বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে কালিগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় নেয়।উপস্থিত সাংবাদিক গন মেয়েটির উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা শুনে পুলিশ কে খবর দেন।পুলিশ এসে কিশোরী মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত)ফরহাদ হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার করে, শুক্রবার একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিশোরী মেয়েটির ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ঘটনার মূল আসামী ধর্ষক রকি কে গ্রেফতার করা হয়েছে।বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে ছাড় দিবে না।