বিয়ে ও প্রতারনাই ছিল গ্রেফতারকৃত ভুয়া পুলিশের ধ্যান জ্ঞান

হাবিব শিমুল,আদমদীঘি(বগুড়া) প্রতিনিধি ।।

পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাপ ও পরিচয় পত্র সব আছে। কিন্তু এগুলো সবই ভুয়া। বগুড়ার সান্তাহারে পুলিশ পরিচয়ে বিয়ে করতে ব্যর্থ হওয়া সেই ভুয়া পুলিশ এখন আসল পুলিশ ও আইনের কব্জায়।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্য জালাল উদ্দিন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এবং বিয়ে করা সাজু মিয়ার প্রধান কাজ। ইতিমধ্যে সে ভুয়া পরিচয়ে প্রায় হাফডজন বিয়ে করেছে। এর মধ্যে এক স্ত্রী আদমদীঘি উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলার চকইসলামপুর (ছুটিপোকরা) গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে সাজু মিয়া (২৮) আদমদীঘির ছোট আখিড়া গ্রামের আজম আলী নামের এক ঘটককে নিয়ে পুলিশ পরিচয়ে সান্তাহার শহরতলীর দমদমা গ্রামের আসাদুল ইসলামের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা (১৮) কে বিয়ে করার প্রস্তাব নিয়ে আসে শুক্রবার। আলাপ-আলোচনা শেষে রবিবার বিয়ের দিনও ধার্য করে। এক সময় কনের মা লাবনী আক্তার, পুলিশ পরিচয়ধারী সাজু মিয়ার নিকট তার চাকরিস্থল জানতে চায়। সে নওগাঁ পুলিশ লাইনে চাকরি করে বলে জানায় এবং পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাপ এবং পরিচয় পত্র দেখিয়ে চলে যায়। এরপরও কনের মায়ের সন্দেহ হয়। তিনি নওগাঁ পুলিশ লাইনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন যে, এ নামের কেউ সেখানে চাকরি করে না। পরে তিনি আদমদীঘি থানায় খবর দেন। থানা পুলিশ ছোটআখিড়া গ্রামের ঘটক আজমের বাড়ি থেকে ভুয়া পুলিশ সাজু মিয়া ও ঘটক আজমকে গ্রেফতার করে এবং পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাপ ও পরিচয় পত্র উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় রবিবার কনের মা লাভলী আক্তার বাদী হয়ে ওই ২ জনকে আসামী করে আদমদীঘি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এক সময় পুলিশের সোর্স হিসাবে কাজ করা সাজু মিয়া বিভিন্ন জেলায় এরকম কাজ করে বেড়ায়। এর পূর্বে এমন ঘটনা ঘটানোয় নওগাঁয় তার নামে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্য জালাল উদ্দিন।