হাজী সেলিমের ছেলের বাড়িতে অভিযান: মিললো অস্ত্র, মদ-বিয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি , ঢাকা ।।
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরফান সেলিমের চকবাজার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ, বিদেশি মদের বোতল, বিয়ার, বেডরুম থেকে একটি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ ওয়াকিটকি এবং ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার করেছে র্যাব।
আজ সোমবার(২৬ অক্টোবর) পুরান ঢাকার চকবাজারের ৮ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আছেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। বেলা ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই অভিযান এখনো চলছে।এই বাড়িটি র্যাব ঘিরে রেখেছে। এখানে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট, র্যাব-৩ ও ১০ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা রয়েছেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায় র্যাব। হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় ওই বাসায় ছিলেন ইরফান।
এর আগে রাজধানীর কলাবাগান ক্রসিংয়ের কাছে হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে তার ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষীরা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহম্মেদ খানকে মারধর করা হয়। এসময় ওই কর্মকর্তার সঙ্গে তার স্ত্রীও ছিলেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নিজেই বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন।তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। মামলার পরপরই গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলবো’। এরপর বের হয়ে ওয়াসিমকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডির ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
