নামাজ আর কোরআনের সাথে সম্পর্ক্যে থেকেও মরতে হলো কোরআন অবমাননার মিথ্যেগুজবে

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি ইউনিয়নে কোরআন অবমাননার দায়ে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা যুবকের পরিচয় মিলেছে,মৃত যুবকের নাম আবু ইউনুস মোঃ সহিদুন্নবি জুয়েল।সে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন পড়তেন ছিলেন ধর্মভীরু।সেই জুয়েল বর্বরতার স্বীকার হন কোরআন অবমাননার মিথ্যে গুজবে।বর্বরতম এমন ঘটনায় সর্বত্র নিন্দার ঝড়, রংপুরে জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে হয়েছে মানববন্ধন।
লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি স্থল বন্দর মসজিদে গত বৃহস্পতিবার আছর নামাজের পর কোরআন অবমাননার অভিযোগে যে যুবক কে পিটিয়ে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে,তার বাড়ী রংপুর শালবন মিস্ত্রিপাড়ায়,মৃত ওয়াজেদ মিয়ার পুত্র জুয়েল মানসিক ভাবে ভারসাম্য হীন ছিলেন।রংপুর ক্যান্টঃ পাবলিক স্কুলের গ্রন্থাগার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।বছর দুই আগে তার চাকুরি চলে যাবার পর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।নিয়মিত নামাজ কোরআন শরীফ পড়তেন ছিলেন ধর্মভীরু।
ঘটনার আগে বুড়িমারি বন্দর মসজিদে প্রবেশের সময় মসজিদের মুয়াজ্জিনের হাত মোসাহেবা করেন জুয়েল ও তার সঙ্গী,পরিচয় দেন র্র্যাব কর্মকর্তা হিসেবে,সঙ্গে ছিলেন একই এলাকার শেখ আব্বাস আলীর ছেলে শেখ জোবায়ের আব্বাস (৪৫),পেশায় সে দলিল লেখক।তারা দুজনে আসর নামাজ আদায় করেন বুড়িমারি বন্দর মসজিদে । নামাজ শেষে কোরআন শরীফের তাকে অস্ত্র রয়েছে বলে তারা অস্ত্র খোঁজা শুরু করেন,এ সময় একটি কোরআন অসাবধানতা বশতঃ পড়ে যায়,তা দেখে হোসেন নামের একজন মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করে জুয়েল ও জোবায়ের আব্বাসের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।পাঁচ ছয়জন মুসল্লি মসজিদের ভিতরে তর্ক বিতর্ক দেখে এগিয়ে এসে মসজিদে প্রবেশ করে,তারা জুয়েল ও জোবায়ের কে বাহিরে বের করে এনে মারধর করেন।মসজিদে হৈ হুল্লোর দেখে জুয়েল ও তার সঙ্গী কে উদ্ধার করেন ইউপি সদস্য হাফিজুল, তিনি এই দুজন কে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রেখে পুলিশ ও ইউ,এন,ও কে খবর দেন।
এ সময় বাহিরে গুজব ছড়ানো হয় কোরআান অবমাননার।এই গুজবে মুহুর্তেই শত শত লোক বিক্ষোভ সহকারে ইউনিয়ন পরিষদে এসে তালা ভেঙ্গে জুয়েল কে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে,তারা লাশ নিয়ে বুড়িমারি লালমনিরহাট মহাসড়কে এসে মৃত জুয়েলের লাশের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।পৈচাশিক সেই বর্বরতায় হাজার হাজার উৎসুক মানুষের সামনে জুয়েল জ্বলন্ত আগুনে পুড়তে থাকে।মৃত জুয়েলের অপর সঙ্গী কে মারাত্মক আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।পুলিশ এ সময় ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেবার জন্য।এদিকে মসজিদের খাদেম আমাদের জানায় মৃত জুয়েল কোরআন শরীফ পাড়িয়ে তার অবমাননার কথাটি মিথ্যে ভিত্তিহীন ছিল এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
বুড়িমারি বন্দর মসজিদে কোরআন অবমাননার গুজবে জুয়েল কে পিটিয়ে মারার পর আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে, এমন ঘটনা কিছুতেই মানতে পারছেন না রংপুরের মানুষ।দীর্ঘদিনের পরিচিত সহকর্মী,একই পাড়া,মহল্লার বড় ভাই, কারো ছোট ভাই,কেউ বন্ধু মৃত জুয়েলের,তারা জুয়েল কে জানতেন একজন সদালাপী ধর্মভীরু মানুষ হিসেবে ,যে কিনা দৈন্দিন জীবনে নামায পড়তেন, কোরআন হাদিস চর্চা করতেন,তার বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তা মানতে পারছেন না।জুয়েল হত্যার প্রতিবাদে রংপুর শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার জনগন সহ সুশীল সমাজ বৃহত পরিসরে মানব বন্ধন করেছে শুক্রবার।
আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানোর ঘটনা শুনে জেলা প্রশাসক আবু জাফর আহমেদ,পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা রাতেই নব্বই কিলোমিটার পথ পাড়িদিয়ে পৌছান ঘটনাস্থলে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিক দের ব্রিফ কালে পুলিশ সুপার জানান এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে একাধিক মামলা করা হবে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে।
