বুড়িমারি জুয়েল হত্যার প্রধান আসামী আবুল ঢাকায় গ্রেফতার

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারি বন্দর মসজিদে গুজব ছড়িয়ে সহিদুন্নবী জুয়েল কে পিটিয়ে মারার পর, আগুন দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় প্রধান আসামী ডেকোরেটর আবুল ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার।

শনিবার ৭ নভেম্বর ভোররাতে রাজধানী ঢাকার ভাটারা থানার অন্তর্গত কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায়, গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারিতে আগুনে পুড়িয়ে মারা ঘটনার আলোচিত মামলার আসামী আবুল হোসে(৪৫) কে গ্রেফতার করে,বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মানস কুমার পোদ্দার।বুড়িমারি আলোচিত মামলার আসামী আবুল হোসেন ঘটনা ঘটিয়ে ঢাকায় পালিয়ে আসেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধান আসামী কে গ্রেফতার করা হয়।

রংপুর ক্যান্টঃপাবলিক স্কুল কলেজের সাবেক গ্রন্থাগার রংপুর শালবন মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহাদুন্নবি জুয়েল একজন ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন,দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও কোরআন তেলওয়াত করতেন।ঘটনার দিন জুয়েল ও তার বন্ধু বুড়িমারি বন্দর মসজিদে আসর নামাজ শেষে কোরআন তেলওয়াত করতে মসজিদের তাক থেকে কোরআন শরীফ নেবার সময় একটি কোরআন পড়ে গেলে তিনি তা উঠিয়ে কপালে চুমু খান,এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামী আবুল হোসেনের সাথে জুয়েলের তর্ক বিতর্ক শুরু হয়, এক পর্যায়ে জুয়েল কে মসজিদ থেকে বের করে পাঁচ ছয়জন মুসল্লি মারধর করে।বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফিজুর রহমান জুয়েল ও তার সঙ্গী কে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

এ সময় গুজব ছড়িয়ে হাজার হাজার লোক জড়ো করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে।,উত্তেজিত জনতা এসময় তালা ভাংচুর করে জুয়েল কে পিটিয়ে মারে,তারপর মৃত জুয়েলের লাশ দড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে মহাসড়কের বাঁশকল এলাকায় নিয়ে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

এই ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন সহ মিডিয়া সরব হয়,রংপুরে জুয়েল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।