হাকিমপুর পৌরসভায় সর্বত্র বইছে নির্বাচনি হাওয়া

গোলাম রব্বানী হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
হাকিমপুর পৌরসভায় সর্বত্র বইছে নির্বাচনি হাওয়া। হাটে বাজারে চায়ের দোকানে সব খানে সবার মুখে এখন শুধু একটায় আলোচনা আসন্ন পৌর নির্বাচনে কে হচ্ছেন পৌর পিতা ( মেয়র)। জমজমাট প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছে প্রার্থীরা। প্রচার-প্রচারনায় জমে উঠেছে দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি পৌরসভার নির্বাচন। আগামী ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। মাঘের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা মাইকিং,মহিলাদের নিয়ে চলছে উঠান বৈঠক, ও পথসভা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যানার ও পোস্টারে সোভা পাচ্ছে পৌর শহরের প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র এন,এ,এম জামিল হোসেন চলন্ত আওয়ামিলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, জনসংযোগ, উঠান বৈঠক, ও পথসভা করতে দেখা গেছে। সাধারণ ভোটারদের কাছে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও তার নিজ হাতে করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ পৌরসভার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা কার্ড, এবং মহামারি করোনা কালিন সময়ে সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও সহায়তা প্রদান এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা তুলে ধরছেন তিনি। ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি হাকিমপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে জামিল হোসেন চলন্ত নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা জাতীয়পাটি ও জাসদসহ ১৪ দলের সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে আটঘাট বেঁধে নির্বাচনে নেমেছেন। নির্বাচন বিষয়ে চলন্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়ে আমাকে পৌরবাসীর কাছে পাঠিয়েছেন। জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নৌকায় ভোট দেবে বলে তাদের কাছ থেকে সেই প্রতিশ্রুতিও পাচ্ছি। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আমি নির্বাচিত হলে জনগনের সুখে-দুঃখে বর্তমানে যেমন পাশে আছি ভবিষ্যতেও তেমনি পাশে থেকে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার চেষ্টা করবো । আর আমি কথা দিতে চাই। আমি নির্বাচনে জনগনের ভোটে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে এই পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর থেকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা গড়াব ইনশাআলাহ। আওয়ামীলীগের জয়ের ব্যাপারে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা শাহীন বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ঐক্যবদ্ধ তাই আমারা বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। বিভিন্ন পথসভা ও উঠান বৈঠক গুলোতে যেভাবে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি এবং সাড়া পাচ্ছি তাতে আমাদের বিজয় হইবে ইনশাআল্লাহ।
এদিকে ধানের শীষ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী পৌর সভার দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন মাঠে মাইকিং, উঠান বৈঠক, পথসভার মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দল মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগনের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। সুষ্ঠ ও শান্তি পূর্ণ ভোটসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন ভাল থাকে সংশ্লিষ্টদের কাছে সেই প্রত্যাশা করেন। কারন আমাদের এবারের নির্বাচন পৌরসভার সাধারণ জনগণের অধিকার আদায়ের নির্বাচন। বিভিন্ন পথসভা ও উঠান বৈঠকে জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হামলা মামলার হুমকি দিলেও আমরা আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা যথারীতি চালিয়ে যাচ্ছি। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে জামায়াতী ইসলামীসহ ঐক্যজোটের কোন নেতাকর্মীকে তার সাথে নির্বাচন মাঠে দেখা যায়নি।
ইসলামি আন্দোলন হাতপাখা মার্কার প্রার্থী সরুজ আলী শেখ পৌরসভা ঘোষনার আগে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমানে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।নির্বাচন মাঠে মাইকিং ছাড়া, দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচার প্রচারণা, উঠান বৈঠক, পথসভা করতে তেমন দেখা যায়নি।তবে হাতে গনা কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। সুষ্ঠ ভোট হলে তিনিও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিশর উদ্দিন সুজন নির্বাচন মাঠে কোন নেতাকর্মী ছাড়াই প্রতিদিন তিনি একাই মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।সুষ্ঠ নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী বলে দাবি করেন।
সবমিলে এবারে হাকিমপুর পৌর নির্বাচন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। তবে ভোটের লড়াইয়ে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী জামিল হোসেন চলন্ত অনেক এগিয়ে আছে। তাই সাধারণ ভোটারেরা বলছেন,এবারের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর নৌকা প্রতীকের বিজয় সুনিশ্চিত হলেও বিএনপি ধানের শীষ প্রতিকের বিজয় নিয়ে হতাশ বা শঙ্কায় আছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে হাকিমপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০ জন ও সংরক্ষিত তিনটি মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি ওয়ার্ডের ১২টি কেন্দ্রের ৭৫ টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে।এবারের নির্বাচনে পৌরসভার সাধারণ ভোটারের সংখ্যা ২১৬৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৭৬৫জন। আর নারী ভোটার ১০ হাজার ৮৬৬ জন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান আকন্দ বলেন, সকল প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
