লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থী,গোল দেবার আশায় ধানের শীষ

মিজানুর রহমান,লালমনিরহাট প্রতিনিধি ।।
লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনে নৌকার শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠ দাপাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থী।ফাঁকা মাঠে গোল দেবার জন্য ধানের শীষের প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি বসে নেই দিয়েছে দলগত প্রার্থী।
লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনের বাকি রয়েছে মাত্র আট দিন,এরই মধ্যে জমে উঠেছে লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা।লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪৭,৭৬৯জন।নয়টি ওয়ার্ডে ১৮টি কেন্দ্র, মোট ৫৬ জন প্রার্থী,এর মধ্যে ০৫জন মেয়র প্রার্থী,৩৭ জন কাউন্সিলর প্রার্থী,১৪জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনে এবারের চিত্রটা ভিন্ন রকম,সরকার দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবার শতভাগ সম্ভবনা ছিল, গত দুই বারের অপরাজিত মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুর।
দুই দুই বারের নির্বাচিত মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার হোসেন পরিবারের সন্তান,এই পরিবারে হাত ধরে জেলায় আওয়ামী লীগ প্রতি%E ্ঠিত হয়।চাচা আবুল হোসেন সাবেক জাতীয় পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।বাবা মকবুল হোসেন ছিলেন লালমনিরহাট পৌরসভার জনপ্রিয় দুই বারের মেয়র।পরিবারের বড় সন্তান চাচাতো ভাই হামিদুল হক মন্টু শেখ হাসিনার নেক নজর থাকায় সাংবিধানিক পদ জাতীয় কর্ম কমিশনের সদস্য।দুই বার মেয়র থাকাকালীন লালমনিরহাট পৌরসভায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নিতে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন যথেষ্ট।দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা কম থাকায় এবং সাধারন কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা থাকায় কিছুটা চাপা ক্ষোভ ছিল কর্মী সমর্থক দের মাঝে।এছাড়া দলীয় মার্কা নৌকা বরাদ্দ ছিল অনেকটাই নিশ্চিত।
এর বাইরে দলীয় মার্কা নৌকা পাবার প্রত্যাশী হিসেবে লালমনিরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক,সাবেক ছাত্রনেতা,জাতীয় শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক, পরিশ্রমী ও সাংগঠনিক ব্যাক্তি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম তপন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে উদার হস্তে সমাজ সেবা করে আসছেন।তার কর্মী সমর্থক আশাবাদী ছিল এবার তিনি মনোনয়ন পাবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে সদ্য বহিস্কৃত,জেলার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী,চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সফল পরিচালক, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের সাবেক এ,জি,এস রেজাউল করিম স্বপন এই দৌড়ে নাম লিখান।
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নাটকীয় ভাবে, দলের জাতীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা থেকে নাম ঘোষনা আসে, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি, তিস্তা কলেজের প্রভাষক,লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ মতিয়ার রহমানের ভাতিজী জামাতা মোফাজ্জল হোসেনের নাম। লালমনিরহাট পৌরবাসী এই মনোনয়নে অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।
দলের সিদ্ধান্ত কে মানতে একটু কষ্ট হলেও বর্তমান মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম তপন মতবিনিময় সভা করে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।দলীয় নেতা কর্মী তাদের এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানিয়ে অভিবাদন জানায়।জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু কে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষনা দেয়।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ প্রত্যাশা করেন সকল বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ মুহুর্তে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিবেন,কিন্তু শতভাগ তেমনটি ঘটেনি।জেলা যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজাউল করিম স্বপন ভোটের মাঠে রয়ে যান।বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ মার্কা নিয়ে মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন।ইতিমধ্যে জেলা যুবলীগ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দ্বায়ে রেজাউল করিম স্বপন কে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে।
লালমনিরহাট পৌর নির্বাচনে ভোটের মাঠে নৌকার বিপক্ষে শক্ত প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম স্বপন মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।করোনাকালে জন প্রতিনিধি দের বিমাতৃসুলভ আচরণে সাধারন মানুষ যখন দিশেহারা,সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষ খেলোয়াড় রেজাউল করিম স্বপন পৌর এলাকার প্রতিটি পাড়া, মহল্লায়, শ্রমজীবী বেকার মানুষদের দ্বারে দ্বারে খাবার পৌছে দেন ব্যাক্তিগত উদ্দোগে।তার নজির বিহীন ত্রান তৎপরতা সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।দলীয় বিধি নিষেধ থাকা স্বত্বেও রেজাউল করিম স্বপন যেখানেই সভা সমাবেশ করছে, সাধারন মানুষের সেখানে ঢল নামছে।ভোটের আগে রেজাউল করিম স্বপনের প্রচার প্রচারণায় দলের অনেক পোষ্টফলীয় নেতা কর্মী সরব ছিল।কিন্তু দলীয় মনোনয়ন মোফাজ্জল হোসেন পাওয়ায় তাদের বেশীর ভাগ নেতাকর্মী সরে গিয়ে নৌকার পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট প্রার্থনা করছেন।তথাপি নৌকার ভোটে বিদ্রোহী প্রার্থী ভাগ বসানোর কারনে নৌকার জন্য বড় শংকা রয়ে গেছে।
ভোটের মাঠে একক প্রার্থী দিয়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সুবিধা জনক জায়গায় রয়েছেন।জেলার অজস্র উন্নয়ন হবার পরেও লালমনিরহাট সদরে ভোটের রাজনীতিতে বেতাজ বাদশা আসাদুল হাবিব দুলু।দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুর প্রার্থী মোশারফ হোসেন রানা ইতিপূর্বে বিএনপির মেয়র ছিলেন,দলের ভেতর মনোমালিন্য থাকায় দল থেকে বেরিয়ে ইতিপূর্বে একক ভাবে নির্বাচন করে মেয়র হতে ব্যার্থ হন।এবার নিজেদের মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে আসাদুল হাবিব দুলুর প্রার্থী হয়েছেন মোশারফ হোসেন রানা।বিএনপির ভোটের কৌশল দলের নেতা আসাদুল দুলু নির্ধারন করেন।ভোটের মাঠে এখনো তার ক্যারিশমা দেখা মেলেনি,সঠিক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন দক্ষ খেলোয়াড় আসাদুল হাবিব দুলু।
মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের,দলীয় প্রার্থী হিসেবে সদ্য যুবলীগ থেকে আসা ওয়াহেদুল হাসান সেনা কে লাঙল প্রতীক বরাদ্দ দেন।ফলে মহাজোটের ভোট ব্যাংকে ভাগ বসায় জাতীয় পার্টি।
লালমনিরহাট পৌর নির্বাচন ইতিমধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারনে উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে।দলীয় প্রার্থীগন ভোটের আগ মূহুর্ত অবধি এভাবে স্ব স্ব অবস্থানে অনড় থাকলে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। নৌকা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর জমজমাট লড়াই হলে বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু গেম চেঞ্জ করতে
তার ক্যারিশমা দেখিয়ে ফল নিজের পক্ষে নেবার চেষ্টা করবেন।হিসেবে গড়মিল দেখা দিলে ঢিলে ঢালা ঘুড়ির সুতো কেটে দিয়ে,ভোটের মাঠে তুরুপের তাস ব্যবহার করবেন।যার ফলাফল ২০০৯সালের উপজেলা নির্বাচনের ন্যায় হতে পারে, এমনটাই শংকা করছেন সাধারন ভোটারগন।
